দিল্লি পুলিশের দাবি মিথ্যে প্রমাণ! আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করল CRPF

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ অভিযান চলাকালীন আন্দোলনকারীদের ওপর ছররা গুলি বা পেলেট গান (Pellet Gun) চালানোর অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সমস্ত জল্পনা ও প্রশাসনিক অস্বস্তির অবসান ঘটিয়ে এবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে পেলেট গান চালানোর কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিল সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বা সিআরপিএফ (CRPF)। খোদ সিআরপিএফ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অন্তর্তদন্তেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
সিআরপিএফ-এর তদন্তে ঠিক কী উঠে এল?
গত ২০ জুলাই ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ‘সংসদ চলো’ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও দেশের তরুণ প্রজন্ম। সংসদের দিকে এগিয়ে চলা সেই মিছিল রুখতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে। সেই সময়ই অভিযোগ ওঠে যে, আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়ে পেলেট গান বা ছররা গুলি চালানো হয়েছে। যদিও প্রথমে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি সিআরপিএফ ও র্যাফ (RAF)-এর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গত ২২ জুলাই একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা বৈঠক করেন সিআরপিএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সেই পর্যালোচনাই পরিষ্কার করে দেয় যে, সংসদ অভিযানের দিন কনৌট প্লেস এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক র্যাফ জওয়ান পেলেট গান থেকে মোট সাত রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এর মধ্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি সরাসরি বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের ওপর ছোড়া হয়েছিল এবং বাকি দুই রাউন্ড ফায়ার করা হয়েছিল রাস্তায়। সবচেয়ে বড় কথা, কো ম্পা নির কমান্ডারের সুনির্দিষ্ট অনুমতি নিয়েই ওই জওয়ান ছররা গুলি চালিয়েছিলেন বলে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।
আহতদের তালিকায় পড়ুয়া থেকে সাংবাদিক
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই দমনপীড়নের জেরে ছররা গুলিতে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় যাঁদের নাম সামনে এসেছে, তাঁরা হলেন— ১. গুরগাঁওয়ে কর্মরত ২৫ বছরের যুবক ইরশাদ শেখ।
২. দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ১৯ বছরের ছাত্র সাহিল লোচাব (যাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে)।
৩. ‘আউটলুক’ ম্যাগাজিনের ২৮ বছর বয়সী এক সাংবাদিক।
এর আগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সরাসরি এক আহত আন্দোলনকারীর আঘাতের চিহ্ন প্রকাশ্যে এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন— শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? এবার খোদ সিআরপিএফ-এর অন্তর্তদন্তে পেলেট গান ব্যবহারের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।