পুজোর আগেই খুলছে বন্ধ চা বাগান, ঘরে ফেরার ডাক পরিযায়ী শ্রমিকদের!

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা উত্তরবঙ্গের একাধিক চা বাগান খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবার জোরালো পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এমনই এক আশার বার্তা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আনন্দের মধ্যেই হাজার হাজার কর্মহীন চা শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে সরকার যে বিশেষ চিন্তাভাবনা করছে, জলপাইগুড়ির মাটি থেকে তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।
আগের সরকারের আমল থেকেই উত্তরের পাহাড় ও সমতল মিলে প্রায় ২৫টি চা বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ কিংবা ধুঁকছিল। ফলে প্রায় ২০ হাজার চা শ্রমিক বেতন না পেয়ে এবং কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। রুজি-রুটির সন্ধানে বাধ্য হয়ে তাঁদের একটা বড় অংশ সিকিম সহ দেশের নানা রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দিয়েছিলেন। এবার তাঁদের নিজের ভিটেয় ফেরাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে।
দু-তিন মাসের মধ্যেই খুলবে ১০-১২টি চা বাগান
এদিন জলপাইগুড়িতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের বিশেষ মধ্যস্থতায় খুব দ্রুতই জট কাটতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং চা পর্ষদের (Tea Board) চেয়ারম্যানের যৌথ উদ্যোগ ও তৎপরতায় আগামী দু’তিন মাসের মধ্যে বন্ধ থাকা অন্তত ১০ থেকে ১২টি চা বাগান খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’
বাগান চালুর পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘ঘরের ছেলেরা এবার ঘরে ফিরে আসুন। আপনাদের কর্মসংস্থান ও রুজির ব্যবস্থা রাজ্য সরকারই নিশ্চিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর চা শ্রমিক যোজনায় ৩৩০ কোটি টাকা
কেবল বাগান খোলাই নয়, চা শ্রমিকদের আর্থিক সুরাহা দিতে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ সমন্বয়ে বড়সড় বরাদ্দের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’র অধীনে ইতিমধ্যে ৩৩০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এই বিশাল অর্থ বরাদ্দের সুফল সরাসরি পাবেন দুর্দশাগ্রস্ত চা শ্রমিকরা, যা তাঁদের আর্থিক সংকট অনেকটাই দূর করবে।
উত্তরকন্যার সম্প্রসারণ ও শিলিগুড়ির উড়ালপুল উদ্বোধন
উত্তরের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও শিলিগুড়ি থেকে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ অবহেলিত থেকে গেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন সুবিধা বাড়াতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক কাজকর্ম সাধারণ মানুষের আরও নাগালের মধ্যে আনতে আগামী দিনে ‘উত্তরকন্যা’ থেকে রাজ্য সরকারের আরও একাধিক দপ্তরের কাজ পরিচালিত হবে।
সোমবার সকালে উত্তরবঙ্গে পৌঁছনোর পর সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি-বর্ধমান রোডের নবনির্মিত উড়ালপুলের শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে শহরের যানজট সমস্যা কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।