কৃত্রিম সূর্য তৈরির পথে বিরাট সাফল্য চিনের, তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট!

কৃত্রিম সূর্য তৈরির পথে বিরাট সাফল্য চিনের, তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট!

নকল সূর্য বা কৃত্রিম সূর্য তৈরির দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চিন। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক পার করল বেজিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন ম্যাগনেট তৈরি করে ফেলল চিনা গবেষকরা, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শক্তির চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডি-আকৃতির এই বিশাল ম্যাগনেট কে তৈরি করেছে?

চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর আওতাধীন ইনস্টিটিউট অফ প্লাজমা ফিজিক্স (IPP) এই বিশাল ম্যাগনেটটি তৈরি করেছে। বিশাল ডি-আকৃতির এই ম্যাগনেটটির দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং ওজন ৫৮২ টন। গবেষকদের দাবি, এটি এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম ফিউশন রিঅ্যাক্টরের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট।

এই ম্যাগনেটের প্রধান কাজ হলো— অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমাকে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিরাপদে আটকে রাখা, যাতে তা রিঅ্যাক্টরের দেওয়ালের সংস্পর্শে এসে ক্ষতি করতে না পারে।

‘কৃত্রিম সূর্য’ আসলে কী?

‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো মূলত একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর। এর মূল লক্ষ্য হলো— সূর্যের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিকভাবে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম উপায়ে replicating করে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর সংযোজন (Fusion) ঘটানো হয়। বিশেষ দিক হলো, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। সেই কারণে বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শক্তির অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে দেখছেন।

চিনের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

চিনের এই ফিউশন গবেষণা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। চলতি বছরের শুরুতেই চিনের ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত Experimental Advanced Superconducting Tokamak (EAST) রিঅ্যাক্টরটি ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টানা ১,০৬৬ সেকেন্ড প্লাজমা ধরে রেখে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

বর্তমানে চিন তিন ধাপে বাণিজ্যিক ফিউশন শক্তি উৎপাদনের রোডম্যাপ তৈরি করেছে:

  • প্রথম ধাপ: ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে চিন।
  • ভবিষ্যত পরিকল্পনা: এরপর ‘চিনা ফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডেমোনস্ট্রেশন রিঅ্যাক্টর’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিশ্বের প্রথম ফিউশন-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *