আগের সরকারের অনিয়ম রুখতে কড়া নির্দেশ, রাজ্যের প্রতিদফতরে চালু হচ্ছে নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা

রাজ্য প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা ও গতি ফিরিয়ে আনতে এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এখন থেকে কোনো অভিযোগ জমা পড়ার অপেক্ষায় বসে না থেকে, প্রতিটি সরকারি দফতরে নির্দিষ্ট পঞ্জিকা (ক্যালেন্ডার) মেনে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ অডিট (Internal Audit) চালানো বাধ্যতামূলক করা হলো। কলকাতার মিলনমেলা চত্বরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অর্থ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিকদের এই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাজের সুবিধার্থে সরকার সমস্ত রকম আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদেরও (CA) সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
বৈঠকের মূল নির্দেশিকা ও সিদ্ধান্তসমূহ:
- নিয়মিত অডিট বাধ্যতামূলক: অতীতে কেবল অভিযোগ বা পরিস্থিতি সাপেক্ষে অডিট করার যে প্রথা ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করা হলো। এখন থেকে ক্যালেন্ডার মেনে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ অডিট সম্পন্ন করতে হবে।
- সম্পূর্ণ অডিট, নমুনা সমীক্ষা নয়: কোনো ‘স্যাম্পল সার্ভে’ বা নমুনা পরীক্ষা আর চলবে না। প্রতিটি দফতরের অডিট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করতে হবে এবং সেই রিপোর্ট সরাসরি পাঠাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO)।
- আগের গরমিল রোধে কঠোর পদক্ষেপ: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়মিত অডিট না হওয়ার কারণে প্রশাসনিক কাজে নানা গরমিল ও অনিয়ম ঘটেছে। বর্তমান সরকার তার আর কোনো পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
- তহবিলের কোনো অভাব হবে না: রাজ্যের চলমান প্রকল্প ও নতুন পরিকাঠামো গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য সরকার বরাদ্দ করবে। কাজের গতি ও স্বচ্ছতায় যেন কোনো রকম খামতি না থাকে।
“আগের সরকারের আমলে অডিট না হওয়ায় অনেক গরমিল হয়েছে। আমরা তার পুনরাবৃত্তি চাই না।” — নবান্ন সূত্রে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ।
সংবাদের গুরুত্ব ও প্রশাসনিক প্রভাব:
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, মিলনমেলার এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ রাজ্য সরকারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে প্রতিটি দফতরের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির পথও অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।