প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন সুসংগঠিত শিল্প! সংসদে ঝাঁঝালো আক্রমণ অভিষেকের

প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন সুসংগঠিত শিল্প! সংসদে ঝাঁঝালো আক্রমণ অভিষেকের

দেশে লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই কি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে? মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিলকে সমর্থন জানালেও, বিগত এক দশকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার চরম বিপর্যয় নিয়ে মোদী সরকারকে চরম কটাক্ষ করেন তিনি।

‘আইন বদলে ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়া যায় না’

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্র সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতার কঠোর সমালোচনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সরকার প্রথমে সর্বত্র আগুন জ্বালিয়ে এখন এক বালতি জল নিয়ে এসে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তাদের এই কাজের জন্য হাততালি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সরকারের একমাত্র পারদর্শিতা হলো—যখনই তাদের শাসনের ব্যর্থতা সামনে আসে, তারা আইন বদলে ফেলে। কিন্তু কেবল সংবাদপত্রের শিরোনাম দেখে দেশ চালানো যায় না, কাজের ফলাফল দিয়েই সরকার নির্ধারিত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১২ বছরে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস আর কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

‘সিবিআই তদন্তের নামে কেবল সময় নষ্ট’

বক্তব্যের সময় ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় (যেমন- NEET, UGC-NET) হওয়া অনিয়মের দীর্ঘ খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি জানান:

  • একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শাস্তির হার প্রায় শূন্যের কোঠায়।
  • সিবিআই বা ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নাম করে কেবল তদন্তের গতি কমিয়ে সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
  • ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের কথা বলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় সিবিআই কিংবা প্রসিকিউশনের অনুপস্থিতি পুরো ব্যবস্থাকে এক প্রহসনে পরিণত করেছে।

‘পরীক্ষার্থীরা শত্রু নয়, আলোচনার বদলে ব্যারিকেড কেন?’

দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানান অভিষেক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের তরুণেরা যখন সততা ও নিজেদের মেধার অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নামছে, তখন সরকার আলোচনার পথ না বেছে ব্যারিকেড, টিয়ার গ্যাস ও পুলিশ দিয়ে তাদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের এই মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, বর্তমান প্রশাসন প্রতিটি প্রতিবাদকে ষড়যন্ত্র এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজেদের শত্রু বলে মনে করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *