টাকার পেছনে নয়, সততার পেছনে ছোটো: নিটের সেরা কৃতীদের বড় বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর!

টাকার পেছনে নয়, সততার পেছনে ছোটো: নিটের সেরা কৃতীদের বড় বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর!

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-কে কেন্দ্র করে চলা দেশজোড়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সাফল্য অর্জন করা রাজ্যের সেরা ১০০ জন কৃতি পড়ুয়াকে বিশেষ সংবর্ধনা দিল রাজ্য সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে পুনরায় নেওয়া পরীক্ষায় নিজেদের মেধার প্রমাণ দিয়ে সফল হওয়া এই ১০০ জন কৃতি ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধিত করতে মঙ্গলবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থেকে মেধাবীদের উৎসাহিত করেন।

মন্ত্রীদের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কৃতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই পরিবর্তিত এবং কঠিন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বাংলার এই ১০০ জন কৃতি পড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। শুধু নিজের কথা না ভেবে সমাজ ও দেশের কথা ভাববেন। সঠিক পথে থাকলে সাফল্য নিশ্চিত।”
  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জীবনের টিপস: নিজের ১৯৮৭ সালের মেডিক্যাল প্রবেশিকায় ১১ নম্বর র‍্যাঙ্ক করার স্মৃতি টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হবু চিকিৎসকদের পরামর্শ দেন, “চিকিৎসক হিসেবে প্রথম শর্তই হলো সততা। রোগীর সঙ্গে সবসময় মানবিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে ব্যবহার করবেন। অহংকার বা ঔদ্ধত্য দেখাবেন না। ভালো চিকিৎসা করলে অর্থ নিজেই আপনার পেছনে ছুটবে।”

এছাড়াও, নিট কাউন্সেলিংয়ের আগে কৃতী শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি কাটাতে এবং সঠিক স্ট্রিম নির্বাচনে সাহায্য করতে অভিজ্ঞদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ টিপসও দেওয়া হয় এই মঞ্চে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

দেশজুড়ে নিট নিয়ে জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পুনরায় যে পরীক্ষা নেওয়া হয়, তা ছিল পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের। তবে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে বাংলার ১০০ জন পড়ুয়ার এই অভাবনীয় সাফল্য রাজ্য তথা দেশের দরবারে এক অনন্য নজির গড়ে তুলেছে।

“পরীক্ষা নিয়ে যতই বিতর্ক হোক, বাংলার মেধা যে থামানো যায় না তা আবার প্রমাণিত।” রাজ্য সরকারের এই সংবর্ধনা আগামী দিনের চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ও সৎ নাগরিক হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *