মেট্রোপলিটনে পাকাপাকি বসতি! হাইপ্রোফাইল পার্টি অফিস নিয়ে বড় আপডেট

একসময়ে যে বাড়িটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সমগ্র তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই বাড়ির দখল নিয়েই শুরু হয়েছিল তীব্র কোন্দল। বাইপাসের ধারের মেট্রোপলিটনের সেই বিখ্যাত বাড়িটি ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের।
আর এবার সেই মেট্রোপলিটনের বাড়িতেই পাকাপাকিভাবে রাজনৈতিক দফতর সাজিয়ে বসার প্রস্তুতি শুরু করে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল ব্লক’।
মেট্রোপলিটনে নিয়মিত বসবেন হেভিওয়েট নেতারা
খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রভাবশালী নেতারা এখন থেকে নিয়মিত মেট্রোপলিটনের এই তৃণমূল ভবনে বসবেন। ইতিমধ্যেই গত বুধবার বিকেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ আহমেদ খান এবং অরূপ বিশ্বাসরা সেখানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
- রস্টার ভিত্তিক বসা: ওই বৈঠকে একটি নির্দিষ্ট রস্টার বা সময়সূচি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতিদিন দলের কোনও না কোনও হেভিওয়েট নেতা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
- কর্ম সমিতির বৈঠক: আগামী দুদিনের মধ্যেই দলের জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা এবার থেকে এখানেই বসব। সবটা পরে জানানো হবে। রস্টার অনুযায়ী এখানে বসব। আমাদের ভবন, আমরা আসব, বসব। আমাদের জায়গায় অন্য কেউ আসবে? অন্য কেউ তো বসবেন না।”
কেন হাতছাড়া হল কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ?
বাইপাসের ধারে অবস্থিত মেট্রোপলিটনের এই বিশাল সম্পত্তির আর্থিক ও রাজনৈতিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। অতীতে এখানেই অখণ্ড তৃণমূলের যাবতীয় দলীয় কাজকর্ম পরিচালিত হত। কিন্তু পরবর্তীতে দলের অন্দরে বিভাজন তৈরি হতেই পার্টি অফিস দখল নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন শুরু হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসেই মেট্রোপলিটনের বাড়িটি খালি করে দেওয়ার কথা ছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের। তারা সেই ভবন ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুযোগ বুঝে সেখানে পাকাপাকিভাবে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করে নিল ঋতব্রতপন্থী শিবির। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, বাড়ির আসল মালিক মন্টু সাহার সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই করে ফেলেছেন তাঁরা। সবমিলিয়ে, এই হাইপ্রোফাইল পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।