জাল নথিতে হাইকোর্টকে বিভ্রান্তির চেষ্টা! নিট পরীক্ষার্থীর মামলা খারিজ, ৩ বছরের ব্যানের মুখে শিক্ষার্থী

নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি মামলায় জাল ও বিকৃত নথিপত্র পেশ করার অভিযোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, ভুয়া নথির সাহায্যে বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর জেরে আবেদনকারীর মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে (NTA) নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
মামলাকারীর আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর মক্কেল নিট পরীক্ষায় তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্কোরকার্ড পেয়েছেন। একই পরীক্ষায় এমন অসঙ্গতি অস্বাভাবিক, তাই এতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে NTA-র আইনজীবী এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, আদালতে জমা দেওয়া সমস্ত নথিপত্রই ভুয়া ও পরিবর্তিত। যে স্কোরকার্ডটিকে চলতি বছরের বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি মূলত আগের বছরের। শুধু তাই নয়, আদালতে পেশ করা ওএমআর (OMR) শিটটিও আসল রেকর্ডের সাথে মিলছে না এবং তা বিকৃত করা হয়েছে।
NTA আরও জানায়, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার মতো এই মারাত্মক অপরাধের জন্য আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁকে আগামী ৩ বছরের জন্য নিট পরীক্ষা থেকে নিষিদ্ধ (Ban) করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, বিচার প্রক্রিয়ার সামনে অসত্য বা জাল তথ্য উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এরপরই তিনি মামলাটি খারিজ করে NTA-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিল যে—ভুয়া নথির মাধ্যমে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে পরিণতি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।