৩১ অগস্টের মধ্যে SSC নিয়োগ শেষ না হলে ফের সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য: শিক্ষামন্ত্রী
কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৩৫,৬৫৪টি শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই প্যানেলে ২০১৬ সালের যোগ্য চাকরিহারারাও আবেদন করেছেন। তৃণমূল আমলের দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পুরো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এরপর গত বছরের মে মাসে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করলে ১৩ হাজারের বেশি যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা আবেদন জানান। তবে আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ না হলে তাঁদের চাকুরিজীবনে ছেদ পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন অনেকেই।
এই আবহে বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা না গেলে রাজ্য সরকার আবার সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হবে। শীর্ষ আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষকরা আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন, অর্থাৎ তাঁদের মেয়াদের আর মাত্র ৩১ দিন বাকি।
নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। যদি কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হয়, তবে আদালতের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হবে। উল্লেখ্য, আদালত ইতিমধ্যেই তাঁদের চাকরির মেয়াদ একবার বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ অগস্ট করেছিল।
বিগত এক দশক ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি, অন্যদিকে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি গেছে। তাঁদের মধ্যে ১,৮০৬ জন ‘দাগি’ শিক্ষকের স্কুলে প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যোগ্যদের একাংশ আগের চাকরিতে ফিরলেও অনেকেই এখনও স্কুলে যাচ্ছেন। তবে ২০১৬ সালের প্রথম SLST-র সব যোগ্যদের স্থান পাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে মার্চ মাসে হওয়া গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশ হয়নি, যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে খুব দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিক, ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ ২০১৬’ প্রথম SLST-র সব যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের প্রয়াত সহকর্মীদের স্মরণে আগামী ২ অগস্ট ধর্মতলায় শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। ‘২০১৬ যোগ্য গ্রুপ সি-ডি অধিকার মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে ১৬ মাস ধরে বেতন না পেলেও শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের নিয়ে ভাবছেন না।
এ ছাড়া যেসব স্কুলে শিক্ষক উদ্বৃত্ত রয়েছেন, সেখান থেকে ঘাটতি থাকা স্কুলে বদলির বিষয়েও বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে বদলি হওয়া শিক্ষকরাও পরবর্তীতে ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালের মাধ্যমে পুনরায় নিজের জেলায় ফেরার জন্য আবেদন করতে পারবেন।