চোখের সামনে তলিয়ে গেল স্ত্রী-সন্তানেরা! গাছের ডাল আঁকড়ে অলৌকিক আত্মরক্ষা স্বামীর

প্রবল বর্ষণে নদীর রূপ ধারণ করেছে রাস্তাঘাট। তার মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মহারাষ্ট্রের যবতমাল জেলায় নদীর প্রবল স্রোতে একটি এসইউভি (SUV) গাড়ি ভেসে গিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন জন। চোখের সামনে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নদীর বুকে তলিয়ে যেতে দেখেও কিছুই করতে পারলেন না পরিবারের কর্তা। কেবল একটি গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন তিনি।
পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, আহিল্যানগরের লোনির বাসিন্দা অবিনাশ খান্ডারে বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রী মাধবী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে করে বের হয়েছিলেন। যবতমালের দরভা এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা দেখেন, সেখানকার কুপ্তি নদীর উপরের সেতুর ওপর দিয়ে বইছে তীব্র বানের জল। জলের গভীরতা ও স্রোতের তোড় সঠিক করতে না পেরে অবিনাশ সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই খড়কুটোর মতো ভেসে যায় ভারী গাড়িটি।
গাড়িটি যখন ভাসতে শুরু করে, তখন চরম সতর্কতায় অবিনাশ কোনোমতে বেরিয়ে এসে জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় একটি গাছ আঁকড়ে ধরে আটকে থাকেন। কিন্তু গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে বের করার কোনো সুযোগ ছিল না। তাঁর চোখের সামনেই গাড়িটি নদীর গভীর স্রোতে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। রাতভর তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার সকালে নদী থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মাধবী ও তাঁর দুই কন্যাসন্তানের নিথর দেহ।
প্রসঙ্গত, আবহাওয়া দপ্তর (IMD) আগেই মহারাষ্ট্র জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছিল। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোতে এবং প্লাবিত রাস্তায় গাড়ি না চালাতে প্রশাসনের তরফে বারবার সতর্ক করা হলেও এই মর্মান্তিক পরিণতি রোখা গেল না। চলতি মাসেই রাজ্যে অতিবৃষ্টির বলি হয়েছেন বহু মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত একশটিরও বেশি ঘরবাড়ি।