কাপড় দোকানের আড়ালে পাকিস্তানি জঙ্গি-যোগ! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গতিবিধিতে নজর, কে এই হামিম?

কাপড় দোকানের আড়ালে পাকিস্তানি জঙ্গি-যোগ! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গতিবিধিতে নজর, কে এই হামিম?

হাওড়া ও বর্ধমান: জামাকাপড়ের দোকানের সাধারণ কর্মী নাকি আড়ালে অন্য কোনো বিপজ্জনক ছক? হাওড়ার পিলখানায় রেডিমেড পোশাকের দোকানে কাজ করা ২৪ বছরের যুবক হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারি ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে। নিজেকে কখনো তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ছাত্র, আবার কখনো বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই যুবকের বিরুদ্ধে সরাসরি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং গ্যাংস্টার শাহজাহাদ ভাট্টির সঙ্গে যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) গত ৩০ জুলাই সকালে হামিমকে গ্রেপ্তার করে। তাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও দুটি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পাকিস্তানের ‘৩৩৩’ নেটওয়ার্ক ও হামিম

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী ও সমাজমাধ্যম প্রভাবশালী (Influencer) শাহজাহাদ ভাট্টির সঙ্গে পরিচয় হয় হামিমের। ভাট্টি বর্তমানে আইএসআই (ISI) এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও মাদকসন্ত্রাসের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভারত সরকারের এনআইএ (NIA), দিল্লি পুলিশ এবং নানা রাজ্যের এটিএস (ATS)-এর নজরে রয়েছে। ‘৩৩৩’ নামে পরিচিত ভাট্টির সহযোগী ‘রানা ভাই’-এর মাধ্যমে হামিম এই পাক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগ, এই রাজ্য থেকে একাধিক গোপনীয় ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ বা কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল হামিমকে।

টার্গেট কি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী?

হামিমের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এসটিএফ আধিকারিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক হাই-প্রোফাইল ভিডিও— যেগুলি কোনো সংবাদমাধ্যমের ফুটেজ নয়, বরং নিজের হাতে সরাসরি তোলা। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্য বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর তারকেশ্বর, অন্ডাল বিমানবন্দর, দুর্গাপুরসহ নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সফর এবং কলকাতার রাস্তার চলাচলের সুনির্দিষ্ট ভিডিও রেকর্ডিং।

প্রশ্ন উঠছে, তবে কি শুভেন্দু অধিকারীকে কোনো বড় ধরনের নাশকতার টার্গেট করা হচ্ছিল? নাকি রাজ্যে মাদকসন্ত্রাসের শিকড় মজবুত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য? এমনকি জৈশ-ই-মহম্মদ বা আইএসের মতো চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিচয় ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড

মূলত বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামের বাসিন্দা হামিম পরিবারের সঙ্গে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। তার বাবা মণিরুল মণ্ডল পেশায় আলু-পেঁয়াজের ব্যবসায়ী। ছেলে হামিম রেডিমেড পোশাকের ব্যবসার কথা বললেও, আদতে সে কীভাবে এত বড় আন্তর্জাতিক চক্রে জড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে হতবাক পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গোয়েন্দারা বর্তমানে হামিমের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং ব্যবহৃত মোবাইল সিমগুলোর কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) স্ক্যান করছেন। এর পেছনে আরও বড় কোনো ভারতীয় চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তা বের করতেই আপাতত মরিয়া এসটিএফ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *