‘রিলেই ক্ষমা, নাকি তুলবেন মামলা?’ মোদীর ভিডিও বার্তার পর তোপ অভিজিৎ দীপকের!

‘রিলেই ক্ষমা, নাকি তুলবেন মামলা?’ মোদীর ভিডিও বার্তার পর তোপ অভিজিৎ দীপকের!

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একের পর এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। গত শুক্রবার এক সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো ইনস্টাগ্রামে একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর গালিগালাজ করা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তিনি মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই উদার বার্তার পরই তীব্র কটাক্ষ করে আসরে নেমেছেন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। মোদীর ভিডিওর কমেন্ট বক্সে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাগুলোও প্রত্যাহার করে নেবেন?”

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক তোলপাড়

  • যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ: প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানাবিধ অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল ছাত্র বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলন চলাকালীন মোদী ও তাঁর প্রয়াত পরিবারকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
  • আইনি পদক্ষেপ: এই ঘটনার পর নয়ডার এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ধারায় মামলা (Zero FIR) দায়ের করে।
  • রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ইনস্টাগ্রামে মোদীর বক্তব্য

ইদানীং তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেন-জি’ (Gen Z)-র কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামকেই প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবারের ভিডিওতে তিনি বলেন, “কিছু যুবক অত্যন্ত নিম্নমানের শব্দ ব্যবহার করেছে। সভ্য সমাজে এই ধরনের ভাষা মেনে নেওয়া যায় না। আমাকে তো অপমান করাই হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও কুৎসিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।”

ক্ষমা বনাম আইনি জটিলতা

প্রধানমন্ত্রী ভিডিওতে আরও জানান, তরুণ সমাজ ভুল করতেই পারে। তাদের আদালতে টেনে এনে সাজা দেওয়া বা হেনস্থা করার পক্ষপাতী তিনি নন। তাই তিনি তাদের মন থেকে ক্ষমা করছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে—স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা করে দিলেই কি পুলিশি মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া নিজে থেকেই খারিজ হয়ে যাবে? নাকি অভিযুক্তদের আদালতের দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়েই যেতে হবে? সিজেপি নেতার এই কটাক্ষের পর বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *