১০৪০ কোটির এফ-৩৫বি ছাই ক্যালিফোর্নিয়ায়! অলৌকিকভাবে বাঁচলেন পাইলট

মার্কিন প্রতিরক্ষা বহরে বড় বিপর্যয়! শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ভেঙে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বাধুনিক ও বহুমূল্য এফ-৩৫বি (F-35B) স্টেলথ যুদ্ধবিমান। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেলেও, শেষ মুহূর্তে প্যারাশুটের সাহায্যে ইজেক্ট করে অলৌকিকভাবে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছেন পাইলট।
মার্কিন মেরিন কোর সূত্রে জানা গেছে, আহত পাইলটকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। উল্লেখ্য, ধ্বংসপ্রাপ্ত এই একক যুদ্ধবিমানটির বাজারমূল্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১০৪০ কোটি টাকা)।
যেভাবে ঘটল সেই ভয়াল দুর্ঘটনা
সান ডিয়েগোর ঐতিহাসিক ‘মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামার’-এর কাছেই বিমানটি আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর চারদিক ধোঁয়ার কালো কুণ্ডলীতে ঢেকে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় আশেপাশের ঝোপঝাড়েও দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল, দমকল ও সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মেরিন কোর।
ঐতিহাসিক মিরামার বেস: যে মিরামার ঘাঁটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে, তা অতীতে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশ্বখ্যাত ‘টপ গান’ (Top Gun) পাইলট ট্রেনিং স্কুলের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এবং একে বলা হতো ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এই স্কুলটি নেভাডায় স্থানান্তরিত হয়।
মার্কিন বিমান বহরে এফ-৩৫ এবং সাম্প্রতিক উদ্বেগ
ভার্টিক্যাল ল্যান্ডিং (STOVL) প্রযুক্তিসম্পন্ন এই এফ-৩৫বি বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম মূল স্তম্ভ। আমেরিকা জুড়ে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও মেরিন কোরের কাছে বর্তমানে ৬৩০টিরও বেশি এমন ফাইটার জেট রয়েছে। পুরো এফ-৩৫ প্রজেক্টটির বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে নিরাপত্তা সংস্থা ‘ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৭টি বিমান দুর্ঘটনার মুখে পড়ল। এর আগে গত জুন মাসে মোহাভি মরুভূমিতে একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধস্ত হয়ে ৮ জন ক্রু মেম্বারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।