জইশ-আইএসআই যোগে বাংলায় উগ্রপন্থার জাল, এনআইএ-র জালে তরুণীসহ ২

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এক গভীর ও বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাৎ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। নিষিদ্ধ পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের লাগাতার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যা গোয়েন্দাদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
জেন-জি (Gen-Z) ও কলেজ পড়ুয়াদের মগজধোলাইয়ের ছক
প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রজন্ম ও কলেজ পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে এক সুসংগঠিত ‘র্যাডিক্যালাইজেশন’ বা উগ্রপন্থী করণের জাল বিছানো হচ্ছিল। এই আন্তর্জাতিক মডিউলের অন্যতম মূল চক্রান্তকারী আদিত্য সিং সরাসরি পাকিস্তান থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা অ্যাসাইনমেন্ট পেত।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জেনারেশন-জেড (Gen-Z) প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মানসিকতাকে প্রভাবিত করা। কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক নামী কলেজের ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে তরুণীদের সুকৌশলে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগের ফাঁদ পাতা হতো। কেন্দ্র সরকারকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করা, দেশবিরোধী অপপ্রচার চালানো এবং ধাপে ধাপে যুব সমাজকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য।
হাওয়ালার মাধ্যমে বিপুল টাকার লেনদেন
কেবল আদর্শগত প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই চক্র, এর নেপথ্যে জড়িয়ে ছিল বিশাল অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেন। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তান থেকে অবৈধ ‘হাওয়ালা’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আদিত্য সিংয়ের কাছে নিয়মিত মোটা টাকা আসত। একাধিক বেনামী ও সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেই কালো টাকা বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই নাশকতামূলক জালে আর কারা যুক্ত, তা এখন গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার ও নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান
বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিমের কাছে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বিশ্লেষণ করেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকড়াও করা হয় সহযোগী অর্পিতা সরকারকে। ধৃত দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে ইতিমধ্যেই আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম গোপন রাখা হলেও, পুরো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও অর্থায়নের উৎস মূল থেকে উপড়ে ফেলতে দেশজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন এনআইএ ও এসটিএফের আধিকারিকেরা।