মুক্তি নয়, এবার দোষী সাব্যস্ত! তহলকার প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপালকে নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ

যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন ‘তহলকা’ (Tehelka) ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তরুণ তেজপাল। ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত এই মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের রায় খারিজ করে তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ।
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ড. নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জাম্বান্ডেকরের ডিভিশন বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬(২)(চ), ৩৭৬(২)(ঞ), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় তরুণ তেজপাল নিজেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এক নতুন মোড় নিল।
ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল?
২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ায় তহলকা সংস্থার বার্ষিক ‘থিংকফেস্ট’ অনুষ্ঠান চলাকালীন একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটে জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
পরবর্তীকালে ২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার একটি সেশন কোর্ট প্রমাণের অভাবে তরুণ তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়। তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন গোয়া সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন— নিম্ন আদালত ঘটনার মূল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে না দেখে কেবল ভুক্তভোগী মহিলার ঘটনার পরবর্তী আচার-ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছিল। উপরন্তু, ঘটনার পর তেজপালের পাঠানো ক্ষমা প্রার্থনার ইমেলগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
যদিও তেজপালের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের খালাসের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সওয়াল করেছিলেন, তবে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বম্বে হাইকোর্ট সেশন কোর্টের রায় খারিজ করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে।