পিঠ বাঁচাতে ভুল চালে ফাঁস? কাওয়াখালি আবাসন থেকে LUCC স্ক্যাম—ফাঁস হবে বড় বড় নাম!

বিশেষ প্রতিনিধি: শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (SJDA) দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতি দমনে এবার চরম কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। জমি মাফিয়া থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও আমলাদের মদতে যে অসাধু চক্র গড়ে উঠেছিল, তার পলেস্তারা এবার খসে পড়তে চলেছে। কাওয়াখালির বহুতল বন্টন কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ‘ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড কভার চেঞ্জ’ (LUCC) সার্টিফিকেটের বেআইনি অপব্যবহার—প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় এসজেডিএ-র অফিসে আয়োজিত দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্তগুলো সামনে আসে। বৈঠকে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পরিবহন ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনসহ স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
📌 বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও তদন্তের রূপরেখা:
- অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত: এলইউসিসি (LUCC) প্রদান এবং ইকো-সেনসিটিভ জোনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বেআইনি বহুতল নির্মাণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে বিচারপতির তত্ত্বাবধানে ‘ইন্টারনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইনকোয়ারি’ করা হবে।
- কাওয়াখালি আবাসন দুর্নীতি: লটারির মাধ্যমে পুনর্বাসনের বহুতল বন্টন করার কথা থাকলেও সেখানে বড়সড় কারচুপির অভিযোগ এসেছে। এর নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাইয়ে কোনও ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে আলাদা তদন্ত করানো হবে।
- বিগত ১৫ বছরের স্পেশাল অডিট: বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু করে গত ১৫ বছরে এসজেডিএ-র যাবতীয় আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব মেলাতে ‘স্পেশাল অডিট’-এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
- ৩০ বছর ধরে একই পদে বসা আধিকারিকদের স্ক্যানার: একই দপ্তরে বহু বছর ধরে একই চেয়ারে চেপে বসে থাকা আমলা ও কর্মীদের ভূমিকাও এই তদন্তের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে।
“একশ্রেণীর অসৎ আমলা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর যোগসাজশে গোটা সিস্টেমটাই ভেঙে পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনে এবার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” — শঙ্কর ঘোষ, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির সার্বিক উন্নয়নে নতুন করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়ির বাদ পড়া এলাকাগুলোকে দ্রুত এসজেডিএ-র আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।