ডাক্তারি পাশ করলেই কি গ্রাম-সেবা বাধ্যতামূলক? সারা দেশে অভিন্ন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট!

নয়াদিল্লি: এমবিবিএস (MBBS) কিংবা উচ্চতর মেডিক্যাল ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসকদের কি বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সময় গ্রামাঞ্চলে পরিষেবা দেওয়া উচিত? রাজ্যভিত্তিক ভিন্ন নিয়ম না রেখে সমগ্র দেশের জন্য একটি অভিন্ন নীতি প্রবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানান যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে (‘Nation Building’) সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। তাই রাজ্য ভেদে আলাদা নিয়ম না রেখে সারা দেশে একটি সর্বভারতীয় গ্রামীণ পরিষেবা নীতি থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল সরকারের নির্দেশ নিয়ে আদালতকে জানানোর কথা বলেছেন।
📌 বিতর্কের মূল কারণ ও আইনি পটভূমি:
এই আইনি বিতর্কের সূত্রপাত কর্ণাটকের একটি আইনকে কেন্দ্র করে। কর্ণাটকের ‘কম্পালসরি সার্ভিস ট্রেনিং অ্যাক্ট, ২০১২’ (এবং ২০১৫-এর বিধি) অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোটার আসন থেকে পাস করা MBBS, PG ও সুপার স্পেশালিটি চিকিৎসকদের এক বছর সরকারি গ্রামীণ পরিষেবা দিতে হয়। এই পরিষেবা শেষ করার পরই মেলে প্রয়োজনীয় NOC এবং কর্ণাটক মেডিক্যাল কাউন্সিলে স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন।
বিতর্ক আরও বাড়ে ২০২৩ সালের ২৮ জুলাইয়ের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর। সেখানে বেসরকারি ও ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব-অর্থায়িত (Private Seat) বিপুল টাকা খরচ করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বাধ্যতামূলক গ্রামীণ পরিষেবার শর্ত প্রসারিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের দাবি— সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আসন এবং বিপুল অর্থ খরচ করে সম্পূর্ণ বেসরকারি আসনে পড়া শিক্ষার্থীদের একইভাবে বিচার করা অনুচিত। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (সাম্যের অধিকার) নিরিখে দুই শ্রেণীর মধ্যে যুক্তিসঙ্গত পার্থক্য রয়েছে। তাই বন্ড ছাড়াই তাঁদের NOC ও স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন প্রদান করার আবেদন জানানো হয়েছে।
🏛️ সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিভঙ্গি:
মামলার শুনানিতে বিচারপতি নরসিমহা জানান, মেডিক্যাল শিক্ষার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ ও অবকাঠামো যুক্ত থাকে। তদুপরি, চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞান সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের জনস্বার্থে কাজে লাগানোর নীতিগত প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসেও আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কেন সমাজসেবার দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে?
⏳ বর্তমান পরিস্থিতি:
শুক্রবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত এখনই সারা দেশে বাধ্যতামূলক গ্রামীণ পরিষেvarsি নির্দেশ দেয়নি; বরং একটি সর্বভারতীয় অভিন্ন নীতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেন্দ্রকে অবস্থান জানাতে বলেছে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
কেন্দ্র যদি শেষ পর্যন্ত সর্বভারতীয় অভিন্ন নীতি তৈরির পথে হাঁটে, তবে ভবিষ্যতে MBBS থেকে শুরু করে PG ও Super Speciality পাস করা সকল চিকিৎসকদের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত এটি কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ নয়, কেন্দ্রকে পরামর্শ মাত্র।