বিধানসভার লড়াই আদালতে নয়! সংবিধানের ২১২ ধারা মনে করিয়ে কুণাল ঘোষের মামলা খারিজ করল হাই কোর্ট

বিধানসভার লড়াই আদালতে নয়! সংবিধানের ২১২ ধারা মনে করিয়ে কুণাল ঘোষের মামলা খারিজ করল হাই কোর্ট

বিধানসভায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে শেষমেশ ধাক্কা খেলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২১২ ধারা অনুযায়ী বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিচার-বিবেচনা বা কাজের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার আদালতের নেই। তবে এই রায়ের পরও কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, তিনি যা চেয়েছিলেন, সেই নির্দেশ বা ‘অর্ডার’ তিনি পেয়ে গেছেন।

আদালতে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব

বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলাকালীন উত্তপ্ত আইনি লড়াই দেখা যায়:

  • কুণাল ঘোষের আইনজীবী: বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য অভিযোগ তোলেন, বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হলেও কুণালবাবুকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একপ্রকার অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
  • বিরোধী শিবিরের যুক্তি: বিরোধী দলনেতার পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর স্পষ্ট জানান, ২৯৪ জন বিধায়কের প্রত্যেককে সব বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া সম্ভব নয়। কোন বিষয়ে কে বলবেন, তা ঠিক করার সর্বময় ক্ষমতা স্পিকারের। তাই আদালতের এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
  • রাজ্য সরকারের অবস্থান: অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্যও মামলাটি খারিজের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি পুরোপুরি বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়।

আদালতের বার্তা: হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, স্পিকারের সিদ্ধান্তই এখানে শেষ কথা। কোনো অভিযোগ থাকলে তা বিধানসভার অন্দরেই জানাতে হবে, আদালতে নয়।

‘হার’-এর মধ্যেও জয় দেখছেন কুণাল

মামলা খারিজ হলেও দৃশ্যত বিন্দুমাত্র হতাশ নন তৃণমূল বিধায়ক। উল্টে সন্তোষ প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমার মামলাটি হয়তো খারিজ হয়েছে, কিন্তু আমি যা চেয়েছিলাম তা পেয়ে গিয়েছি।” তাঁর দাবি, আদালতের অর্ডারে স্পষ্ট লেখা থাকছে যে তিনি তাঁর বক্তব্য সরাসরি বিধানসভার অভিভাবক অর্থাৎ স্পিকারকে জানাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিধানসভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হওয়া এবং মার্শাল দিয়ে তাঁকে বাইরে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *