আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রুখতে জোড়া নির্দেশিকায় সই ট্রাম্পের, দুশ্চিন্তায় প্রবাসী ভারতীয়রা

আমেরিকায় স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ এবং কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে দেশে ভ্রমণের (‘বার্থ ট্যুরিজম’) সংস্কৃতি রুখতে আবার কড়া পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি এই সংক্রান্ত দু’টি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল অন্যান্য দেশই নয়, আমেরিকায় বসবাসকারী বা ভ্রমণে ইচ্ছুক বহু ভারতীয় নাগরিকও সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন বলে রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে।
নতুন নিয়মে ঠিক কী বলা হয়েছে?
প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর, এবার ট্রাম্প প্রশাসন তুলনামূলকভাবে সুনির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকায় জন্ম নিলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না। বিশেষ করে—
- বিদেশি কূটনীতিক বা দূতাবাসকর্মীদের সন্তান,
- প্রশাসন কর্তৃক ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান, এবং
- যেসব পিতা-মাতা প্রতারণার মাধ্যমে ভিসা বা নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রে এই নতুন কড়াকড়ি প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া কেবল সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যাঁরা ভিসার আবেদন করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার ‘বার্থ ট্যুরিজম’-কে এখন থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেই ধরে নেবে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, মার্কিন সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে সুরক্ষিত, তাই এই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভারতীয়দের ওপর প্রভাব:
চিন ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ভারতকেও ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশের পর থেকে সন্তানসম্ভবা যেসব ভারতীয় নারী বা দম্পতি আমেরিকা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ভিসা পাওয়া এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।
যদিও সরকারিভাবে প্রতি বছর ঠিক কতজন কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য আমেরিকায় যান তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে বেসরকারি নানা সংস্থার মতে এই সংখ্যা বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপে তাই বহু ভারতীয় পরিবারে ভবিষ্যৎ ভিসা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।