আইনি রক্ষাকবচ পেতেই আত্মগোপন থেকে সোজা ভবানী ভবনে! সিআইডি মুখোমুখি অভিষেকের ‘ডান হাত’ সুমিত রায়

দীর্ঘদিন ধরে চলা লুকোচুরির অবসান। মাথার ওপর একাধিক ঝুলন্ত মামলা নিয়ে এতদিন ধরে অন্তরালেই ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ মেলার পর, শনিবার সকালে সিআইডি (CID)-র তলবে সাড়া দিয়ে ভবানী ভবনে গিয়ে হাজিরা দিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের খোঁজে কিছু দিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে মাঝরাতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় তীব্র সরব হয়েছিলেন অভিষেক নিজেও। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ ও গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়।
নিম্ন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত। দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ ভবানী ভবনে পৌঁছান তিনি।
ঠিক কী কী গুরুতর অভিযোগে নাম জড়িয়েছে সুমিতের?
তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছেন অভিষেকের এই ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক:
- শালবনি জমি জালিয়াতি: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জাল নথি ও ভুয়ো দলিল তৈরি করে সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল ও বিক্রি করার মূল অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
- চাকরি দুর্নীতি: পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এলাকার একটি বহুল আলোচিত নিয়োগ বা চাকরি দুর্নীতি মামলাতেও সুমিত রায়কে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
- রিসর্টের টাকা আত্মসাৎ: তৃণমূলের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচার কর্মসূচি ‘সেবাশ্রয়’-এর জন্য একটি রিসোর্ট বুক করে সেই বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
এছাড়াও জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের (Breach of Trust) একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। কলকাতা হাইকোর্ট একটি চাকরি মামলায় তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও অন্য দু’টি মামলায় আগাম জামিন বা রক্ষাকবচ পাননি তিনি। পরবর্তীতে বিষ্ণুপুর ও শালবনি— দু’টি মামলারই তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।
বিজেপির তোপ:
সুমিত রায়ের ভবানী ভবনে হাজিরার আগেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেত্রী ও বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বারবার বলছেন যে সুমিত মারা গিয়েছেন? আর অন্যদিকে তিনি নিজে কেন বিদেশে যেতে চাইছেন? এই দুই বিষয়ের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো গোপন যোগসাজশ রয়েছে!”