“যেকোনো মূল্যে নওদার পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার হবেই!”—পুলিশকে তোপ দেগে হুঙ্কার অধীর চৌধুরীর

“যেকোনো মূল্যে নওদার পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার হবেই!”—পুলিশকে তোপ দেগে হুঙ্কার অধীর চৌধুরীর

কংগ্রেস কর্মীদের রক্ত ও ঘামে গড়ে ওঠা নওদার আমতলা এলাকার পার্টি অফিস যেকোনো মূল্যে পুনরুদ্ধার করা হবে—রবিবার বহরমপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে নওদার এই কংগ্রেস কার্যালয়টি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে অধীর চৌধুরী অনুগামীদের নিয়ে পার্টি অফিসটি পুনরুদ্ধার করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশের দাবি, আইনি বা আদালতের কোনো স্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া ওই ভবনে কংগ্রেসকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব নয়।

এই ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশ বর্তমানে নিরাসক্ত ভূমিকা ছেড়ে এনসিপিআই-এর (NCPI) স্বার্থে কাজ করছে, যা কার্যত বিজেপিরই একটি সহোদর দল। তৃণমূলের বিজয়ী সাংসদ বর্তমানে দলবদল করে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় এবং এলাকায় ঢুকতে না পেরে দিল্লি থেকে পুলিশকে পরিচালনা করছেন।” তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু দিনের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অধীরবাবু পরিষ্কার বলেন, স্থানীয় মানুষের জমি ও তিল তিল ত্যাগে তৈরি এই অফিস তিনি উদ্ধার করবেনই।

অন্যদিকে, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো বা ই-রিকশা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন অধীর চৌধুরী। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হকার ও টোটো চালকদের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়াকে তিনি উন্নয়ন বলে মনে করেন না। তাঁর মতে, খাস জমিতে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেস বিধায়ক

অধীর চৌধুরীর এই লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের রাণীনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি। তিনি জানান, ওই কার্যালয়টি যে কংগ্রেসেরই—তার সমস্ত বৈধ নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে ভবনের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য চার-পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সমাধান না হলে মুর্শিদাবাদসহ সমগ্র রাজ্য থেকে কর্মীদের একজোট করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *