“আগে থেকে জানাননি কেন?” হালিশহরে মমতার ওপর ‘হামলা’ প্রসঙ্গে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

হালিশহর: পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রবিবার মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গো-ব্যাক ও ‘চোর’ স্লোগানের পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঠিক তার পরদিনই, অর্থাৎ সোমবার, ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ও বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা পান এবং সরকার সেই নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। তবে রবিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“উনি বয়সে বড়, তাই পরামর্শ দেব না, অনুরোধ করব। উনি যদি আগে থেকে মেল করে নিজের কর্মসূচির সময় পুলিশকে জানাতেন, তবে উপযুক্ত নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু কাল তো উনি কাউকেই না জানিয়ে আচমকা চলে এসেছিলেন।”
হামলার পেছনে বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, এটি ছিল সাধারণ মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ’। উল্টে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেছেন বলে জানান তিনি। বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “আপনাদের আমলে ৩১৫ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। আপনি কি কখনও কোনো বিরোধী দলের মৃত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন? একটাও উদাহরণ দেখাতে পারবেন না।”
মমতার আচমকা সফর এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই তীক্ষ্ণ বক্তব্য বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।