ঝাড়খণ্ডে জেন-জি আন্দোলন: জলকামানের ধারায় উদ্দাম নাচ, লাঠিচার্জে উত্তপ্ত রাঁচি

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। সরকারের সঙ্গে ষষ্ঠ দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর রবিবার রণক্ষেত্রের রূপ নেয় রাঁচির রাজপথ। গত ১৬ দিন ধরে চলা পরীক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এদিন বিধানসভা অভিযানে পৌঁছে নতুন মাত্রা পায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে এসে জমা হন।
পুলিশি বাধা ও ছাত্রদের প্রতিরোধ
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে বিশাল পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ ও জলকামান প্রয়োগ করে। তবে বিহারের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের মতোই, এখানেও আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে যাননি। বরং পুলিশের ছোঁড়া জলকামানের জলের তোড়েই শরীর ভিজিয়ে নাচতে ও উল্লাস করতে দেখা যায় পড়ুয়াদের। সংঘর্ষে বেশ কিছু ছাত্র আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের অধিকাংশ স্কুল বন্ধ রাখা হয় এবং গাড়িগুলোতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আটক হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনেও বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।
সরকারের ব্যাকফুট ও অটল পরীক্ষার্থীরা
লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে হেমন্ত সোরেন সরকার কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। রাজ্য সরকার ৩টি প্রধান পরীক্ষা বাতিল করার আভাস দিয়ে দাবি করেছে যে, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮% দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই আন্দোলন তুলে নেওয়া উচিত।
তবে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো সহ আন্দোলনকারীরা এই প্রস্তাবে রাজি নন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধু ৩টি নয়, অনিয়ম হওয়া মোট ১৩টি পরীক্ষাই বাতিল করতে হবে এবং পুরো ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্ত করতে হবে। দাবি পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।