আদালতে চাঞ্চল্যকর ‘অক্টোপাস’ তত্ত্ব: টুলু কাণ্ডে ২৫০-৩০০ কোটির দুর্নীতির গন্ধ, অভিযানে পুলিশ

টুলু মণ্ডল মামলার তদন্তে নামতেই একের পর এক পর্দাফাঁস হচ্ছে দুর্নীতির। এবার আদালতে উঠলো চাঞ্চল্যকর ‘অক্টোপাস’ তত্ত্ব! সোমবার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, এই গোটা কাণ্ডের মূল মাথা একজন হলেও, তার হাত অক্টোপাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।
টুলুর দুই ম্যানেজার—সীতেশ প্রামাণিক ও নইমুদ্দিন মণ্ডলকে সম্প্রতি আদালতে তোলা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সীতেশের হাতে লেখা একটি হিসেবের খাতাও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, যার সত্যতা যাচাই করতে হস্তরেখা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া মামলায় জালিয়াতি, প্রতারণা ও প্রমাণ লোপাটের মতো আরও চারটি নতুন ধারা যুক্ত করার আর্জি জানিয়েছে রাজ্য।
তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় এনেছে উদ্ধার হওয়া পাথর সংক্রান্ত ডিসিআর (DCR) নথি। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর নিশ্চিত করেছে, টুলুর ডেরা থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত ডিসিআর ভুয়া! আইনজীবীর দাবি, এই জাল নথি ব্যবহার করেই প্রতি বছর প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি চালাত এই চক্র।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল থেকেই বীরভূমের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। টুলু ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মণ্ডল এবং তাঁর ভাইপো মুর্শিদ কালাম মণ্ডলের বাড়িতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে হানা দেয় বীরভূম জেলা পুলিশ।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—টুলুর এই ‘অক্টোপাস’ সাম্রাজ্যের পরিধি ঠিক কতটা বড়? আর কতজন এখনও পুলিশের নজর এড়িয়ে রয়েছে? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।