৫ বছরে আড়াই হাজার কোটির কর ফাঁকি! সোনা-নগদের পর প্রকাশ্যে টুলুর ‘জাল ডিসিআর’ সাম্রাজ্য

বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের জালিয়াতির সাম্রাজ্য কতদূর ছড়ানো, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! ১৫ কেজি সোনা এবং সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধারের পর, এবার পুলিশের হাতে এল আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। প্রাথমিক তদন্ত ও বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, গত ৫ বছরে সরকারি রাজকোষ থেকে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে।
কিভাবে সামনে এল এই বিশাল জালিয়াতি?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুলাই। বীরভূমের দেউচায় টুলুর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ—যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই টুলুর দুই ম্যানেজারসহ এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফ্রিজ করা হয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের প্রায় ২২০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ৪০০ বিঘার বেশি জমি এবং ২০০টিরও বেশি গাড়ির হদিশ মিলেছে।
ভুয়ো DCR দিয়ে হাজার কোটির জালিয়াতি
তদন্তে সবথেকে বড় যে তথ্যটি উঠে এসেছে, তা হলো টুলুর ‘জাল DCR’ (Demand and Collection Register) চক্র। পাথর খাদান ও পরিবহনের রাজস্ব ফাঁকি দিতে সম্পূর্ণ ভুয়ো চালানের ব্যবহার করত সে।
টুলুর পার্কিং লট থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ভুয়ো DCR ছাপানোর যন্ত্র ও নথিপত্র বিএলআরও (BLLRO) দফতরে পাঠানো হলে, তারা নিশ্চিত করে যে ব্যবহৃত সমস্ত DCR-ই ১০০% ভুয়ো।
তদন্তকারীদের অনুমান, কাগজপত্র আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখলে রাজস্ব ফাঁকির এই অঙ্ক আড়াই হাজার কোটি টাকাও ছাপিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে পলাতক টুলু মণ্ডলাকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় জোরদার চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।