“শাস্তি নয়, সহানুভূতি”: পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী যুদ্ধে নামছেন ২১,৮৫০ শিক্ষক

মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকার। রাজ্যের প্রধান মাদকবিরোধী অভিযান ‘যুদ্ধ নশেন বিরুদ্ধে’-র অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১২টি জেলার শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ২১,৮৫০ জনেরও বেশি শিক্ষককে উপযুক্ত প্রশিক্ষণে সজ্জিত করা, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজেই শনাক্ত করতে পারেন এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
প্রথম ধাপের সাফল্য ও সীমান্তবর্তী জেলায় বিশেষ নজর
চলতি বছরের শুরুতে রাজ্যের সীমান্তবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে একটি সফল পাইলট প্রজেক্ট চালানো হয়েছিল।
অমৃতসরের মডেল: অমৃতসরে আয়োজিত প্রশিক্ষণে ২,৮০০-র বেশি শিক্ষক অংশ নেন। পরবর্তীতে প্রায় ৭৫% শিক্ষক জানান যে, এই প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
১২টি জেলায় সম্প্রসারণ: এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ফাজিলকা, তরন তারান, ফিরোজপুর, গুরুদাসপুর, পাঠানকোট, শ্রী মুক্তসর সাহেব, ফরিদকোট, মোহালি, রোপার, কাপুরথালা, লুধিয়ানা এবং পাতিয়ালা— এই ১২টি জেলায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ফাজিলকা ও তরন তারানে ৮০০-র বেশি শিক্ষককে নিয়ে কর্মশালা আয়োজিত হয়।
শিক্ষকরা যেভাবে ভূমিকা রাখবেন
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডঃ বলবীর সিং জানান, কিশোর-কিশোরীদের আবেগিক সুস্থতা এবং মাদকের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষকদের আরও সংবেদনশীল করে তুলতেই এই মডিউল তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষকরা এবার থেকে:
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আসক্তির লক্ষণগুলো প্রারম্ভিক অবস্থাতেই চিহ্নিত করবেন।
অপরাধীর মতো শাস্তিমূলক আচরণ না করে, সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতার সাথে তাদের পাশে দাঁড়াবেন।
সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত কাউন্সেলিং ও সহায়তার আওতায় নিয়ে আসবেন।
“পাঞ্জাবের কোনো শিশুকেই যেন নীরবে কষ্ট পেতে না হয় বা সামাজিক কলঙ্কের শিকার না হতে হয়। প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
— ডঃ বলবীর সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পাঞ্জাব।
আন্তঃবিভাগীয় উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণের রূপরেখা
এই বিশালাকার প্রকল্পটি একাধিক সরকারি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে:
সহযোগী বিভাগ: রাজ্য শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (SCERT) এবং সমাজ সুরক্ষা ও নারী-শিশু উন্নয়ন বিভাগ।
প্রশিক্ষণ সামগ্রী: ডেটা ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড টেকনিক্যাল সাপোর্ট ইউনিট (DITSU) এর গুণগত মান নিশ্চিত করছে।
৫০টি+ ব্যাচ: ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ১২টি জেলা জুড়ে ৫০০-র বেশি ব্যাচে এই একদিনের সচেতনতা সেশনগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অভিভাবকের ভূমিকা:
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক সমতুল্য রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করছেন। শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয়গুলো প্রয়োগ করতে তারা আগামী সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থীদের সাথে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং পুরো ব্যবস্থাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ (Monitoring) করা হবে।