টোকিও থেকে দেশে ফিরবে নেতাজির চিতাভস্ম? অনিতা বোসের আর্জিতে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস

খবর ডেস্ক: জাপানের টোকিওতে অবস্থিত রেনকোজি মন্দির থেকে মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন আইনি মোড়। এবার বাবার চিতাভস্ম দেশে এনে সসম্মানে শেষকৃত্য সম্পন্নের আর্জি জানিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ। মঙ্গলবার এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের কাছে তাদের সরকারি অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
আদালতে ঠিক কী ঘটল? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। অনিতা বোসের পক্ষে আদালতে জোরালো সওয়াল করেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। আইনি যুক্তি শোনার পর কেন্দ্র সরকারকে তাঁদের স্পষ্ট জবাব পেশ করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
কন্যা অনিতা বোস ফাফের বক্তব্য: নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে হাজারো বিতর্ক থাকলেও কন্যা অনিতার অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম নেতাজিরই। তাই স্বাধীন ভারতের মাটিতেই যেন তাঁর বাবার শেষকৃত্য মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়—এই দাবিই তিনি পেশ করেছেন।
পটভূমি ও অন্তর্ধান বিতর্ক
- ঐতিহাসিক দাবি: ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর দাবি করা হয় এবং পরবর্তীতে চিতাভস্ম রাখা হয় রেনকোজি মন্দিরে।
- তদন্ত কমিশনের বৈপরীত্য: শাহনওয়াজ কমিটি ও খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব মেনে নিলেও, পরবর্তীতে মুখার্জি কমিশন তা খারিজ করে দেয়। তবে কেন্দ্র মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি।
- ডিএনএ টেস্টের দাবি: রেনকোজি মন্দিরে থাকা চিতাভস্ম আসলেও নেতাজির কি না, তা নিশ্চিত করতে বহুবার ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Test) দাবি উঠেছে।
নেতাজিকন্যার এই আইনি পদক্ষেপে দেশজুড়ে নেতাজির অন্তর্ধান ও শেষকৃত্য নিয়ে ফের নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে মোদী সরকার এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।