হাতির হানায় প্রাণহানি শূন্য! বাঁকুড়ার এই মডেল এখন দেশজুড়ে চর্চায়

মানুষ ও হাতির সংঘাত রুখে দিয়ে অনন্য নজির গড়ল বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই অঞ্চলে হাতির হানায় মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে এসেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার ঘটল। একই সঙ্গে মানুষের পালটা আক্রমণে হাতি মৃত্যুর ঘটনাও রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত এক বিশেষ জাতীয় কর্মশালায় বাঁকুড়ার এই সাফল্য জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক ও রাজ্যগুলির বনদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাঁকুড়ার কর্মপদ্ধতি এখন দেশের অন্যান্য হাতি-অধ্যুষিত রাজ্যগুলির কাছে অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।
অতীতে খাদ্য বা বাসস্থানের খোঁজে লোকালয়ে হাতি চলে আসার ফলে বড় মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটত। ২০১৫-২০১৬ সালে যেখানে বাঁকুড়া উত্তরে মাত্র এক বছরে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে এই আমূল পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিল সুনির্দিষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা। শুধু হাতিকে জঙ্গলে আটকে রাখাই নয়, বরং তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ এবং সংঘাতের সম্ভাব্য এলাকাগুলিকে একসঙ্গে বিবেচনা করেই এই সাফল্য অর্জন করা হয়েছে। রাজ্য বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের অন্যান্য বিভাগেও বাঁকুড়ার এই সফল কৌশল রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।