নেতাজি বিতর্কে অনন্তর ক্ষমাপ্রার্থনাতেও মিলল না রেহাই, দূরত্ব বজায় রাখল দল!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে চরম উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার জেরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিলেও রাজনীতির ময়দানে ক্ষোভ কমেনি।
অনন্ত মহারাজ দাবি করেছেন যে কাউকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না এবং তাঁর কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে বিরোধী দলগুলি এই ক্ষমা চাওয়ায় সন্তুষ্ট নয়; তারা তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থার দাবি তুলেছে। বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দেব তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতীয় বীরকে অবমাননা করার পর কেবল ক্ষমা চাওয়া বা পদ প্রত্যাহার যথেষ্ট নয়, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ আবশ্যক।
অন্যদিকে, এই মন্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে দূরত্ব বজায় রেখেছে বিজেপি। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অনন্ত মহারাজের দেওয়া বক্তব্য একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত, যার সঙ্গে দল বা সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। নেতাজির মতো জাতীয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এমন কথা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংক্রান্ত কর্মসূচিকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মনীষীদের অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার এবং ইতিমধ্যেই অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ক্ষমা প্রার্থনার পরেও অনন্ত মহারাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সহজে থামছে না।