বিজেপির ‘ন্যাচারাল অ্যালাই’ থেকে ‘নিয়ো কমিউনিজ়মের জননী’, কী ভাবে মমতার হাতেই তৈরি হলো নতুন বামবৃত্ত?

বিজেপির ‘ন্যাচারাল অ্যালাই’ থেকে ‘নিয়ো কমিউনিজ়মের জননী’, কী ভাবে মমতার হাতেই তৈরি হলো নতুন বামবৃত্ত?

২০০৭ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। সেই পর্বে তৎকালীন সিপিএম সরকারের নীতি ও জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ আন্দোলনে তিনি পাশে পান মহাশ্বেতা দেবী, কবীর সুমন, ব্রাত্য বসু ও শাঁওলি মিত্রের মতো বিশিষ্ট বামমনস্ক বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। পাশাপাশি, এসইউসিআই ও সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের মতো অতিবাম রাজনৈতিক দলগুলোও মমতার হাত ধরে। মমতা কৌশলে ‘জল-জঙ্গল-জমি’র স্লোগান তুলে এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আউড়ে নিজেকে প্রকৃত বামপন্থী আদর্শের ধারক হিসেবে তুলে ধরেন। এভাবে সিপিএম-বিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেন।

সিপিএমের অভ্যন্তরীণ অবক্ষয়, সচার কমিটির রিপোর্ট ঘিরে মুসলিম সমাজের অসন্তোষ এবং দীর্ঘদিনের অতীত তিক্ততা এই রাজনৈতিক রূপান্তরে বড় ভূমিকা রাখে। সিপিএমের প্রতি ক্ষুব্ধ বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ মমতার পপুলিশ্ট বা জনমোহিনী রাজনীতিকে সমর্থন জানান, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কেবল আদর্শিক পরিবর্তন ছিল না; বরং ক্ষমতার প্রত্যাশা ও সিপিএম-বিদ্বেষের ফল। মমতার এই কৌশল বামফ্রন্টের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্কে তীব্র ভাঙন ধরায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তাঁর ঐতিহাসিক ক্ষমতা দখলের পথ সুগম হয়, যেখানে বাম ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন তাঁর অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *