KFC থেকে ফাইভ স্টার হোটেল— খাবারের নামে বিষ বিতরণ, কর্নাটকে খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের অভিযানে চাঞ্চল্য

KFC থেকে ফাইভ স্টার হোটেল— খাবারের নামে বিষ বিতরণ, কর্নাটকে খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের অভিযানে চাঞ্চল্য

বাহ্যিক সাজসজ্জা কিংবা ফাইভ স্টার পরিবেশ দেখে খাবারের গুণের বিচার করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা সম্প্রতি প্রমাণ করল কর্নাটকের খাদ্য নিরাপত্তা দফতর। রাজ্যজুড়ে এক বিশাল সারপ্রাইজ ভিজিটে নেমে হোটেল, রিসর্ট এবং সরকারি ক্যান্টিন থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার কেজিরও বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ, বাসি এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী।

অভিযান ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর চিত্র

মহীশূর, বেঙ্গালুরু এবং ম্যাঙ্গালোরের মতো বড় শহরগুলোতে সম্প্রতি একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। মহীশূরের নামী ‘গ্র্যান্ড মারকিউর’ হোটেল থেকে ৬৮ কেজি বাসি মাংস, ‘রিও মেরিডিয়ান’ থেকে ৯ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগির মাংস এবং ‘কিউ স্টার’ হোটেল থেকে ৪ কেজি ছত্রাকযুক্ত মাশরুম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ম্যাঙ্গালোরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড KFC-র একটি আউটলেটে এক গ্রাহক অনলাইনে পচা ‘চিকেন পেরি পেরি লেগ’ পাওয়ার অভিযোগ জানালে তৎক্ষণাৎ সেখানে হানা দেন আধিকারিকরা। ফ্রিজ ও কোল্ড স্টোরেজ পরীক্ষা করে উদ্ধার করা হয় নিম্নমানের খাবার।

সরকারি ভবন ও সর্বসাধারণের ক্যান্টিনেও অনিয়ম

শুধু বেসরকারি বিলাসবহুল হোটেলই নয়, বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধ, বিকাশ সৌধ এবং আরোগ্য সৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের ক্যান্টিনগুলোতেও ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পোকা-মাকড় প্রতিরোধের সঠিক ব্যবস্থা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ মশলা ব্যবহার হতে দেখা যায়। এছাড়াও সাধারণ মানুষের ‘ইন্দিরা ক্যান্টিন’ এবং বেশ কিছু কুইক-কমার্স ডেলিভারি হাবের বিরুদ্ধেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের নোটিস জারি করা হয়েছে।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি

বেঙ্গালুরুতেই ৬০টিরও বেশি নামী রেস্তরাঁয় হানা দিয়ে ৭৭টি খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার নিয়ম সবাইকে মানতেই হবে। জনস্বাস্থ্যের সাথে কোনো সমঝোতা করা হবে না এবং আগামী দিনেও এই ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *