“ ৫০০ শহিদের নাম দিতে পারব, ৫০ জনের নাম বলুক আরএসএস!”— কর্ণাটকের মন্ত্রীর জোর চ্যালেঞ্জ

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। সঙ্ঘের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক আইনি সংস্কার নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জেরে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ:
প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সরাসরি আরএসএস-এর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সঙ্ঘের কী অবদান ছিল তা স্পষ্ট করা উচিত। তিনি জানান, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এমন অন্তত ৫০০ জন কংগ্রেস নেতার নামের তালিকা তিনি দিতে প্রস্তুত। এর বিপরীতে আরএসএস কি ৫০ জন শহিদের নাম তুলে ধরতে পারবে? পাশাপাশি দেশভাগের সময় দাঙ্গা রোধে সঙ্ঘের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রেজিস্ট্রেশন ও সঙ্ঘকে নিষিদ্ধ করার আইনি তর্ক:
আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একটি আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরেন। খাড়গের দাবি, সঙ্ঘ কোনো আইনত নিবন্ধিত (registered) সংস্থা নয়, তাই তাদের সরাসরি নিষিদ্ধ করা কঠিন। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সঙ্ঘের নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সরকারি সম্পত্তি বিল ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
কর্ণাটক সরকারের প্রস্তাবিত ‘রেгулиশন অফ ইউজ অফ গভর্নমেন্ট প্রেমিসেস অ্যান্ড পাবলিক প্রপার্টি বিল, ২০২৬’ সমর্থনের পক্ষে সওয়াল করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনেই সরকারি স্থানে সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে এই বিল আনা হয়েছে।
অন্যদিকে মন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা বি এল সন্তোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, আরএসএস-এর মতো সংগঠনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কোনো সরকারি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই; বিগত কয়েক দশক ধরে কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থনের ওপর ভর করেই সঙ্ঘ পরিচালিত হয়ে আসছে।