‘জানলা ভেঙে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা…’ তারাপীঠের হোটেলে ধোঁয়া-আগুনের খাঁচায় ৪৫ মিনিট, পর্যটকের হাড়হিম বিবরণ!

ভোরের আলো ফুটতেই তারাপীঠের এক হোটেলে আচমকা বিকট শব্দ এবং চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। রুমের দরজা খুলতেই আগুনের লেলিহান শিখা ধেয়ে আসতে দেখে আতঙ্কে শিউরে ওঠেন পর্যটকরা। মালদহের বাসিন্দা তপজ্যোতি মণ্ডল তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাথরুমে আশ্রয় নেন। ঘরে যাতে ধোঁয়া ঢুকতে না পারে সে জন্য দরজা আটকে এবং বাথরুমের জানলা ভেঙে কোনোক্রমে নিশ্বাস নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালান তিনি। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠা সেই ঘরে আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার মধ্যে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা ও দুই বোন।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় অনেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় ঝলসে গেছেন, আবার অনেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে পুড়ে মারাত্মক জখম হয়েছেন। হোটেলের পিছনের সিঁড়ি ব্যবহার করে বহু আটকে পড়া মানুষকে বের করে আনে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। কিন্তু এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পর অনেকেই তাঁদের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হোটেলের সামনে দেখা গেছে শরীর ঝলসে যাওয়া আহতদের করুণ দৃশ্য, যাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।