বাড়িতে সন্তান প্রসব করলেই জেল-জরিমানা! প্রসূতি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামিলনাড়ু সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তামিলনাড়ু সরকার। এবার থেকে হাসপাতাল বা কোনো স্বীকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে অর্থাৎ বাড়িতে সন্তান প্রসব করানোকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রেখে নতুন বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় স্বাস্থ্য বিভাগের অনুদান সংক্রান্ত আলোচনার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে. জি. অরুণরাজ এই নতুন পদক্ষে পটির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ১৯৩৯ সালের অর্থাৎ প্রায় ৮৭ বছরের পুরনো ‘তামিলনাড়ু জনস্বাস্থ্য আইন’-এ যুগোপযোগী পরিবর্তন এনে একটি সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রসূতি নারীদের অনিরাপদ প্রসব বন্ধ করতেই এর মধ্যে হাসপাতাল-বহির্ভূত প্রসবকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ ধারা যোগ করা হচ্ছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব দ্রাজ আহমেদ স্পষ্ট করেন, পুরো নতুন আইনটি পাস হতে কিছুটা সময় লাগলেও হোম ডেলিভারি সংক্রান্ত কঠোর বিধিমালাটি জরুরি ভিত্তিতে দ্রুতই বলবৎ করা হবে।
কঠোর আইন আনার মূল কারণ: সম্প্রতি কোয়েম্বাটুর জেলার পুঞ্জাই থালাইভিপালায়াম এলাকার ৩২ বছর বয়সী শশীকলা নামের এক নারী নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে প্রসবের মাত্র চার দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনভিপ্রেত ও মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটার কারণেই প্রশাসনকে এই চরম কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।