ডায়মন্ড হারবারে বিপর্যয়! হুগলি নদীর ১০০ মিটার বাঁধ তলিয়ে গেল নদীগর্ভে, বিপদের মুখে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক

ডায়মন্ড হারবারে বিপর্যয়! হুগলি নদীর ১০০ মিটার বাঁধ তলিয়ে গেল নদীগর্ভে, বিপদের মুখে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক

ডায়মন্ড হারবার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে দুর্যোগের মেঘ। এর মাঝেই ডায়মন্ড হারবারে হুগলি নদীর বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমে বড়সড় বিপর্যয় ঘটল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ঠিক গা ঘেঁষে থাকা নদীবাঁধের ১০০ মিটারেরও বেশি অংশ মুহূর্তের মধ্যে ধসে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়কের অত্যন্ত কাছে এই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

কেন এই বিপর্যয়? গত কয়েকদিন ধরে চলা অতিবৃষ্টিতে নদীর জলস্তর মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বাঁধের মাটি আগে থেকেই নরম ও আলগা হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর নদীর প্রবল স্রোত ও জলের চাপে দুর্বল বাঁধটি ভেঙে পড়ে। তবে হঠাৎ এত বড় অংশ ধসে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনো প্রযুক্তিগত কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

আতঙ্কে বাসিন্দারা ও জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা প্রশ্নচিহ্নে: ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটির একপাশে ফুঁসে ওঠা হুগলি নদী এবং অন্যপাশে জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। বাঁধের বাকি অংশ ধসে গেলে নদীর নোনা জল সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে প্লাবিত হওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরতি মুখার্জি আতঙ্কের সুর মিলিয়ে বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পাড়ে জাতীয় সড়কের কাছে ধস নেমেছে। বাঁধের এতটা অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমরা ভীষণ ভয়ে আছি। জোয়ারের জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।”

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জেলার অন্যান্য এলাকার চিত্র: পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক হালদার। তাঁর অভিযোগ, শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় সমস্ত উপকূলীয় এলাকার নদীবাঁধই অত্যন্ত জীর্ণ। তিনি দ্রুত সবকটি বিপজ্জনক জায়গায় আগাম মেরামতির দাবি জানান।

শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, একই রকম দুর্যোগের ছবি দেখা গিয়েছে জেলার অন্যান্য প্রান্তেও:

  • রায়চক: নদীবাঁধে বড় ধস নেমেছে।
  • নামখানা ও গঙ্গাসাগর: গঙ্গাসাগরের ধবলা হাট, লালপুরসহ নামখানার একাধিক এলাকায় বাঁধ ভেঙে নদীর নোনা জল লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ত্রাণশিবির: খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

  • গঙ্গাসাগরের জলমগ্ন ও বিপজ্জনক এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ২২টি পরিবারকে নিরাপদ ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
  • তাঁদের জন্য নিখরচায় খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

পরবর্তী আশঙ্কা: আসন্ন জোয়ারের সময় নদীতে জলের চাপ আরও বাড়লে বাঁধের আরও অংশ ধসে পড়তে পারে। জাতীয় সড়ক রক্ষা করা এবং লোকালয়ে জল ঢোকা আটকানোই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আবহাওয়া ও নদীর জলস্তরের ওপর আগামী কয়েক ঘণ্টার পরিস্থিতি নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *