সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? আর চিন্তা নেই, এখন বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা!

সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? আর চিন্তা নেই, এখন বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা!

সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ চালানো অত্যন্ত কঠিন। ফলে সিংহভাগ মানুষই বিনামূল্যে পরিষেবার আসায় সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়শই সরকারি হাসপাতালে বেড পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দূর করতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়সড় স্বস্তি ফেরাতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে বেড না পেলে রোগীকে সরকারি উদ্যোগেই সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। আর এই চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার স্বয়ং।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?

বিশেষ করে কলকাতার বড় বড় মেডিক্যাল কলেজগুলোতে রোগীদের যে ভিড় থাকে, তা সামাল দিতেই এই মাস্টারপ্ল্যান।

  • বেড বুকিং ও ট্রানজিট: প্রথমে রোগীকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানে বেড খালি না থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠাবে।
  • রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: কন্ট্রোল রুমের কাছে কোন বেসরকারি হাসপাতালে খালি বেড রয়েছে তার সার্বক্ষণিক তথ্য থাকবে। সেখান থেকেই সাথে সাথে বেড বুক করে দেওয়া হবে।
  • বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স: রোগী যাতে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য সরকারি খরচে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে পরিষেবা

পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের সাথে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কেপিসি (KPC)-কে যুক্ত করা হয়েছে। সফলতা নিশ্চিত করতে মক ড্রিল শেষ করার পরই পরিষেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। বেসরকারি হাসপাতালগুলির সাথে কয়েক দফা বৈঠকের পর প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কলকাতার আরজি কর, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই এই পরিষেবা কার্যকর করা হবে যাতে বেডের অভাবে কোনো রোগীকে না খেয়ে চিকিৎসা ছাড়াই ফিরে যেতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *