কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধর্মতলার হোটেলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রাণ গেল ৯ জনের, মৃত ঝাড়খণ্ডের তরুণ সাফাইকর্মীও
কলকাতা: ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা হোটেলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৫ জি নম্বরের ওই পাঁচতলা হোটেলের তিনতলায় হঠাৎই আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, আগুনের শিখার চেয়েও বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় দম আটকে মৃত্যু হয়েছে বেশিভাগ মানুষের। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১ জন শিশু, ২ জন মহিলা এবং ৬ জন পুরুষসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছরের তরুণ সন্দীপ পাসোয়ান। ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা সন্দীপ মাত্র পাঁচ মাস আগে কাজের সন্ধানে কলকাতায় এসেছিলেন। পাঁচ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। পড়াশোনা ছেড়ে কলকাতার নাগেরবাজারে থাকা কাকা সীতারাম পাসোয়ানের সহায়তায় ওই হোটেলে সাফাই কর্মীর কাজ পান সন্দীপ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সন্দীপ হোটেলের যে জায়গায় ঘুমিয়েছিলেন, তার পাশেই একটি ফ্রিজ ছিল। আগুন লাগার পর সন্দীপের মুখ ও বুক মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। কাকা সীতারাম ও আত্মীয়দের অনুমান, ফ্রিজের কম্প্রেসার ফেটেই হয়তো আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। বুধবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসে ঝলসানো দেহ শনাক্ত করেন স্বজনেরা।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা ও প্রশাসনিক প্রশ্ন। দুটি বাড়ি জুড়ে বেআইনিভাবে হোটেল ব্যবসা চালানো হচ্ছিল কি না এবং অনুমতি বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।