হাওড়া-তারকেশ্বরে ‘মৃত্যুকূপ’ শত শত হোটেল! অগ্নিনির্বাপণ বিধি তুচ্ছ করে বিশাল বিপদ, মাঠে নামছে বিশেষ টিম

হাওড়া-তারকেশ্বরে ‘মৃত্যুকূপ’ শত শত হোটেল! অগ্নিনির্বাপণ বিধি তুচ্ছ করে বিশাল বিপদ, মাঠে নামছে বিশেষ টিম

একে তো ৫০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ বিল্ডিং, তার ওপর নেই কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা। হাওড়া স্টেশন এবং হুগলির তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সরকারি সমস্ত নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে অজস্র হোটেল ও লজ। সম্প্রতি কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের করুণ মৃত্যুর পর এবার হাওড়া ও তারকেশ্বরের এই জরাজীর্ণ হোটেলগুলির সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকার কঙ্কালসার ছবি: পুরসভা সূত্রের খবর, শুধুমাত্র হাওড়া স্টেশন এলাকাতেই প্রায় ২০০টি ছোট-বড় হোটেল ও লজ রয়েছে। যাত্রী ও পুণ্যার্থীদের সমাগম থাকায় সারা বছরই এই হোটেলগুলি হাউজফুল থাকে। কিন্তু আসল সত্যিটা খুবই ভীতিজনক:

  • ঝুলন্ত তার ও শর্ট সার্কিটের ভয়: ঘরের সিলিং ও দেওয়ালে যত্রতত্র বিদ্যুতের পুরোনো তার ঝুলছে।
  • জরুরি সিঁড়ি ও জলের অভাব: কোনও ফায়ার এস্কেপ বা অতিরিক্ত জরুরি সিঁড়ি নেই। যে সরু সিঁড়ি রয়েছে, তা দিয়ে দুজন মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারে না। নেই পর্যাপ্ত জলের রিজার্ভারও।
  • অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যবহার: কয়েক দশক আগে বাসস্থানের জন্য তৈরি ডবসন লেনের পাঁচতলা বাড়িগুলোকে এখন অবৈধভাবে বাণিজ্যিক হোটেলে রূপান্তর করা হয়েছে। অধিকাংশের কাছেই কোনও বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই।

তারকেশ্বরের শৈবতীর্থেও একই চিত্র: একই অবস্থা হুগলির তারকেশ্বরেও। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি হোটেল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক বাড়ির ভেতরেই চলছে হোটেল, আর তার নিচে জ্বলছে রান্নার গ্যাস বা কয়লার উনুন। শ্রাবণী মেলার সময় পুলিশি নজরদারি কিছুটা থাকলেও বছরের বাকি সময়টা প্রশাসনিক নজর এড়িয়েই সব চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশ্বাস: ডবসন লেনের বাসিন্দা রাহুল সোনকার সহ স্থানীয়দের ক্ষোভ— এই বিপজ্জনক হোটেলগুলোর কারণে যে কোনও দিন বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ত ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, “হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেলেরই উপযুক্ত ফায়ার লাইসেন্স নেই। গোটা পরিস্থিতির সার্বিক তদন্ত ও পরিদর্শন করতে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল (Special Inspection Team) গঠন করা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত সরজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *