কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দমকল দপ্তরের ৫০০ মিটারের মধ্যেই বেআইনি ‘মরণফাঁদ’, উধাও হোটেলের মালিক

কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দমকল দপ্তরের ৫০০ মিটারের মধ্যেই বেআইনি ‘মরণফাঁদ’, উধাও হোটেলের মালিক

কলকাতা: ছিল আবাসিক ভবন, কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে নিয়মরীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি হয়ে গিয়েছিল একাধিক বাণিজ্যিক হোটেল। নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকলের সদর দপ্তর থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে অবস্থিত একটি ছ’তলা ভবনে গত মঙ্গলবার রাতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশে কর্মরত এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসহ বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো দুটি ভবনকে জুড়ে ‘L’ আকৃতির কাঠামো তৈরি করে অন্তত আট-দশটি ছোট ছোট হোটেল চালানো হচ্ছিল। যার মধ্যে অন্যতম তিন তলার ‘শিখা ইন’। বাংলাদেশ থেকে আসা সাধারণ মানুষ এবং ভিন রাজ্যের পর্যটকদের স্বল্প খরচে (৫০০ থেকে ৮০০ টাকা) থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল এই ঘুপচি ঘরগুলিতে। কিন্তু লাভের মুখ দেখতে গিয়ে সম্পূর্ণ উধাও ছিল ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ও জরুরি বেরোনোর পথ (Emergency Exit)। যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটি অত্যন্ত সরু সিঁড়ি। এমনকি, অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো ফায়ার বা ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, আবাসনটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে গিয়ে বেআইনিভাবে ভবনের পিলার কেটে ঘরের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ২টো ১৫ নাগাদ উল্টো দিকের হোটেলের কর্মীরা প্রথম ‘শিখা ইন’-এ আগুন দেখতে পান। হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, পরবর্তীতে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ বেহালায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দমকল ও কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, অনুমতি ছাড়া কীভাবে এতদিন এই ব্যবসা চলল তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সিইএসসি (CESC)-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে এই বেআইনি পরিকাঠামোয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। আপাতত প্রশাসনের নির্দেশে ওই বহুতলের সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *