‘ব্যবসা চালানো সরকারের কাজ নয়’, শিল্প ও কৃষিতে বেসরকারি বিনিয়োগের বড় বার্তা শমীকের

‘ব্যবসা চালানো সরকারের কাজ নয়’, শিল্প ও কৃষিতে বেসরকারি বিনিয়োগের বড় বার্তা শমীকের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। কোন কোন সংস্থার শেয়ার বাজারে নথিভুক্তকরণ বা শেয়ার বিক্রি করা সম্ভব, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে সেই বাজেটে। সরকারের এই অর্থনৈতিক নীতিকে আরও জোরদার বার্তা দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

বিধাননগরে আয়োজিত একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, “সরকারের কাজ কোনো ব্যবসা চালানো নয়।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আইআইটি-র প্রাক্তন ছাত্রদের কাছ থেকে মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির নানা স্টার্ট-আপ প্রস্তাব আসছে। বাংলাতেও কোনো প্রতিভাবান শিক্ষার্থী এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার পূর্ণ সহায়তা করবে।

শুধু শিল্প বা প্রযুক্তিই নয়, রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্রকেও আরও গতিশীল করতে বেসরকারি উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ বলে পরিচিত বর্ধমানেও জমির উৎপাদনশীলতা কমছে এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি এখনো সেচের আওতায় আসেনি। চাল উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দেশে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, কৃষির এই আধুনিকীকরণ একা কোনো সরকার বা মন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়; তার জন্য বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে এসে নতুন প্রস্তাব দেওয়া প্রয়োজন।

বিজেপি সভাপতির মতে, বিগত প্রায় অর্ধশতকের বাম ও তৃণমূল শাসনের ফলে বাংলায় সবকিছুর রাজনীতিকরণ হয়েছে। এর ফলে মেধা ও পুঁজি রাজ্য ছেড়ে বাইরে চলে গেছে—এমনকি বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছেন সফল বাঙালিরা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নতুন সরকারের হাত ধরে রাজ্যের পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। রাজ্য সরকারের নীতি যে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক ভাবনার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য থেকে তা আরও স্পষ্ট হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *