‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস যুদ্ধ তুঙ্গে: ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বনাম তুষ্টিকরণের অভিযোগ!

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর কতটি স্তবক গাওয়া হবে, তা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত মেনে দলীয় কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ১৯৩৭ সালে ভোটব্যাঙ্ক ও তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্য কংগ্রেস এই গানটিকে বিভক্ত করেছিল, যা পরবর্তীতে দেশভাগের পথকে প্রশস্ত করেছিল। তিনি আরও জানান, বর্তমান মোদী সরকার জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তিতে ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করে পুরো গানটিকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে।
এর জবাবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বিজেপিকে ‘ভুয়ো ও প্রতারণামূলক জাতীয়তাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তোপ দাগেন। তাঁর দাবি, বেকারত্ব ও সরকারের ব্যর্থতার মতো মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই বিজেপি এই বিতর্ক তৈরি করছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল ও ইমরান মাসুদ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং মৌলানা আজাদের মতো শীর্ষ নেতারা দেশের বহুত্ববাদী চরিত্র বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী’ বা ‘তুষ্টিকরণ’ বলা অনুচিত বলে কংগ্রেস দাবি করে।