চটজলদি আরাম পেতে ঘাড় ফাটানোর মারাত্মক অভ্যাস কি পঙ্গু করে দিতে পারে আপনাকে

চটজলদি আরাম পেতে ঘাড় ফাটানোর মারাত্মক অভ্যাস কি পঙ্গু করে দিতে পারে আপনাকে

কাজের ক্লান্তি কাটাতে বা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার পর ঘাড়ে টান লাগলে অনেকেই সটান ঘাড় মুচড়ে ‘মট’ করে শব্দ বের করে নেন। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি আরামদায়ক মনে হলেও, অজান্তেই শরীরের বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল রূপেশ প্রসাদ জানান, স্বাভাবিক নড়াচড়ায় অস্থিসন্ধির গ্যাসের বুদবুদ ফেটে শব্দ হওয়া এবং তার সাথে ব্যথা বা ফোলা ভাব না থাকলে তা ভীতিজনক নয়। তবে অভ্যাসবশত বারবার জোর করে কিংবা ঝাঁকুনি দিয়ে ঘাড় ফাটানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে ঘাড়ের চারপাশের নরম মাংসপেশি, সূক্ষ্ম লিগামেন্ট ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা থেকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মূলত ভুল ভঙ্গিতে বসা, একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেই মানুষের মধ্যে এই ক্ষতিকর প্রবণতা তৈরি হয়। যদি ঘাড়ে তীব্র ব্যথা, হাতে ঝিঁঝি ধরা, হাত অবশ লাগা, শারীরিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। তাই ঘাড়ের ওপর অনাবশ্যক অত্যাচার না করে জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ঘাড়ের সুরক্ষায় একটানা এক ভঙ্গিতে বসে না থেকে কাজের ফাঁকে হালকা স্ট্রেচিং করা, সোজা হয়ে বসার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে রাখাই সুস্থ ও নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *