ইথানল নয়, অন্য কারণে বাড়ছে চিনির দাম: দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ

উৎসবের মরসুমের আগেই দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চিনির দাম। গত এক মাসে খুচরো বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৮.১৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫.৭০ টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা। অনেকেই এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করছিলেন, তবে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ইথানল উৎপাদনের সাথে চিনির দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
মন্ত্রকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে যেখানে ইথানল তৈরিতে ১২% চিনি ব্যবহার হতো, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯%-এ। এখন বেশিরভাগ ইথানল তৈরি হচ্ছে ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে।
মূল্যবৃদ্ধির আসল কারণসমূহ:
- উৎপাদন হ্রাস: অতিবৃষ্টি, জমিতে জল জমা এবং ‘রেড রট’ ও ‘টপ বোরার’ রোগের আক্রমণের কারণে আখের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে কমে ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টনে নামতে পারে।
- উৎসবের চাহিদা ও মজুতদারি: সামনেই উৎসবের মরসুম থাকায় চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরিতে মজুতদারি শুরু করেছে।
- আন্তর্জাতিক সংকট: বিশ্ববাজারে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমেছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নেওয়া পদক্ষেপ: বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসা রুখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিলারদের জন্য ৪০০ টন এবং বড় ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিন চিনি মজুত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মিলগুলোতে যৌথ পরিদর্শন চলছে।
এছাড়া, জোগান নিশ্চিত করতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই মিলগুলোকে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অক্টোবরের মধ্যেই বাজারে অতিরিক্ত চিনি চলে আসে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ ক্রেতা ও আখ চাষি—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।