কেন বিয়ে থেকে দূরে সরছে জেন জ়ি ও মিলেনিয়ালরা? উঠে এলো নানা বাস্তব কারণ
August 22, 20262:33 pm

বর্তমান যুগে মিলেনিয়াল ও জেন জ়ি প্রজন্মের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হওয়া কিংবা দেরিতে বিয়ে করার একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রথা পেরিয়ে জীবনকে নিজের মতো করে সাজানো এবং আত্মোন্নতিকে তারা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
বিয়ে বিমুখতার মূল কারণসমূহ:
- আর্থিক অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার খরচ: জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং পেশাগত ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব না পাওয়া একটি বড় বাধা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবাশিস সান্যালের মতে, বর্তমান যুগে লিভিং কস্ট অত্যন্ত বেশি। ফলে বিয়ের আগে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করাটা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- বিকল্প হিসেবে ‘লিভ-ইন’: আইনি বা সামাজিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা সিচুয়েশনশিপের মতো বিকল্প পথে হাঁটছে অনেকেই। অভিনেত্রী অমৃতা চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেতা ঋষভ বসু জানান, সামাজিক ট্যাবুর জায়গা কমে আসায় শুধুমাত্র আইনি দলিলের জন্য অনেকে সামাজিক বন্ধনে জড়াতে চাইছেন না।
- শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও ট্রমা: অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ বা বিবাহবিচ্ছেদ দেখে বেড়ে ওঠা সন্তানের মনে বিয়ে নিয়ে এক ধরনের ভয় বা আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
- সঙ্গী নির্বাচনে দ্বিধা ও বিচ্ছেদের ভয়: ভুল সঙ্গী নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ডিভোর্সের জটিলতা বা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বহু মানুষকে বিবাহবিমুখ করছে।
- দেরিতে সংসার শুরুর প্রবণতা: ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. প্রশান্ত কুমার রায়ের মতে, নতুন প্রজন্ম বিয়ে একেবারে প্রত্যাখ্যান করছে— এমনটা বলা ভুল। প্রায় ৮০% তরুণ-তরুণী ভবিষ্যতে বিয়ের কথা ভাবলেও, পূর্ণ মানসিক স্থিতাবস্থা ও সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় নিচ্ছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টার (Pew Research Center)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনেরও বেশি মিলেনিয়াল নিজস্ব পরিবার গঠন না করে স্বাধীনভাবে বাস করছে। পেশাগত সফলতা, মানসিক শান্তি এবং স্বাধীনতাকেই আজকের তরুণ সমাজ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।