বাংলায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ওদিকে মহারাষ্ট্রে অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৯,৬০৫ কোটি টাকা!

বাংলায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘিরে ক্ষোভের আগুন, ওদিকে মহারাষ্ট্রে অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৯,৬০৫ কোটি টাকা!

বিশেষ প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা না পেয়ে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের অসন্তোষ ও ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবেদনপত্র জমা ও প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরও বহু যোগ্য মহিলা ভাতাবঞ্চিত। এই অভিযোগে ফারাক্কা, সাগরদিঘি, ধুলিয়ান, বিরাটি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় বিডিও অফিস ঘেরাও, রাস্তা ও রেল অবরোধের মতো ঘটনা ঘটছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত দুস্থ মহিলাদের নাম বাদ দিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রের ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহারাষ্ট্রে ৯,৬০৫ কোটি টাকার বড়সড় গলদ তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মহারাষ্ট্রের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’য় ব্যাপক অনিয়ম ঘটেছে। প্রায় ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে রাজকোষের ৯,৬০৫ কোটি টাকা।

তালিকায় কীভাবে গলদ?

  • ই-কেওয়াইসি (e-KYC) আসাম্পূর্ণ: প্রায় ৬২ লক্ষ গ্রাহক ই-কেওয়াইসি করেননি।
  • আয়সীমা লঙ্ঘন: ১৬ লক্ষ পরিবারের বার্ষিক আয় নির্ধারিত আড়াই লক্ষ টাকার বেশি।
  • অনুমোদিত সরকারি কর্মী: সাড়ে চার লক্ষ সরকারি কর্মী ও আধিকারিক অসদুপায়ে এই টাকা নিয়েছেন।
  • অন্যান্য অনিয়ম: একই পরিবারের একাধিক সদস্য, বয়সের ঊর্ধ্বসীমা (৬৫ বছর) অতিক্রম করা এবং অন্যান্য সরকারি ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও লক্ষ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা ভোগ করেছেন।

টাকা কি ফেরত পাবে রাজকোষ? মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, কেবল অযোগ্য সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকেই বেআইনিভাবে নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া হবে। বাকি অন্যান্য অযোগ্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে এই বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হবে না, যা রাজকোষের বিশাল ক্ষতি।

বাংলা প্রশাসনের জন্য বার্তা পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা করে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে এবং ১৪ লক্ষ আবেদন ঝুলে রয়েছে। মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—কেবল ভাতা ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, সঠিক ও স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া না থাকলে একদিকে যেমন প্রকৃত যোগ্যরা বঞ্চিত হন, অন্যদিকে ভুয়া উপভোক্তাদের কারণে সরকারি কোষাগারের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *