‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মোক্ষম ধাক্কা! শীর্ষনেতাদের ছাঁটাই করে লস্কর-জৈশ-হিজবুলকে সরাসরি কব্জা করল ISI

পাকিস্তানের তিন শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন—লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মূল রাশ এখন সরাসরি পাক গুপ্তচর সংস্থা ‘ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’ (ISI)-এর হাতে। এতদিন এই তিন সংগঠনের সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও, এবার থেকে তাদের অপারেশন ও কৌশল নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইএসআই-ই। এর ফলে একপ্রকার পদ খোয়ালেন হাফিজ মহম্মদ সইদ, মৌলানা মাসুদ আজহার এবং সৈয়দ সালাহউদ্দিনের মতো শীর্ষ জঙ্গি নেতারা।
পাক সেনার দুই অফিসারের হাতে কমান্ড: গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই তিন সংগঠনকে পুনর্গঠিত করে একটি ‘ইউনিফাইড ফোর্স’ বা ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাক সেনার ব্রিগেডিয়ার ইকবাল এবং কর্নেল ওয়াইজকে।
কৌশলে বড় পরিবর্তন:
- অনুপ্রবেশের নতুন ছক: আগে ১০-১২ জনের দল নিয়ে সীমান্ত পার করানো হলেও, নতুন কৌশলে মাত্র ৩ জনের ছোট দল পাঠানো হবে। এই দলে লস্কর, জৈশ ও হিজবুল—তিন সংগঠন থেকেই এক জন করে জঙ্গি থাকবে।
- সরাসরি নিয়ন্ত্রণ: সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত জানানোর দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত নির্দেশ আসবে আইএসআই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সেনা অফিসারের কাছ থেকে।
নেতৃত্ব বদলের কারণ: ১. ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কা: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ফলে তিন সংগঠনের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। লস্কর কিছুটা সক্রিয় হলেও জৈশ ও হিজবুল একেবারেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ২. নেতাদের শারীরিক ও মানসিক অবনতি: খবর অনুযায়ী, হাফিজ সইদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক (কারো মতে সে মৃত)। অন্যদিকে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পরিবার হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মাসুদ আজহার এবং সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন সালাহউদ্দিন। ৩. অভ্যন্তরীণ কোন্দল: সংগঠনগুলির মধ্যে পারস্পরিক ইগোর লড়াই ও কৃতিত্ব নেওয়ার কোন্দল কাটাতে ব্যর্থ হয়েছিল পুরনো নেতৃত্ব।
সদর দপ্তর সংস্কার ও নতুন লক্ষ্য: আইএসআই ইতিমধ্যেই বাহওয়ালপুরে জৈশের সদর দপ্তর ‘মারকাজ সুভান আল্লাহ’ এবং মুরিদকে-তে লস্করের ‘মারকাজ-ই-তৈবা’ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, কাশ্মীরের শিক্ষিত তরুণদের মগজধোলাই করে র্যাডিকালাইজড করার এবং পরবর্তীতে তাদের ‘লোন উল্ফ’ (একা হামলাকারী) হিসেবে ব্যবহারের ছক কষছে আইএসআই।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অয়নজিৎ সেনের মতে, আইএসআই-এর এই ‘এক ছাতার তলায়’ আনার চেষ্টা বেশি দিন সফল নাও হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ফান্ডিং কমতে পারে এবং অপারেশন শুরুর আগেই নেতৃত্বের ইগো ও কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াইয়ে ভেস্তে যেতে পারে তাদের সমস্ত পরিকল্পনা।