“ভারত কি তবে চিরকাল অনুন্নত থাকবে?” প্রক্রিয়াজাত খাদ্য নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধল শীর্ষ আদালত

“ভারত কি তবে চিরকাল অনুন্নত থাকবে?” প্রক্রিয়াজাত খাদ্য নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধল শীর্ষ আদালত

প্যাকেটবন্দি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের গায়ে স্পষ্ট লাল সতর্কবার্তা (‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক ওয়ার্নিং লেবেল’) বাধ্যতামূলক করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের ক্রমবর্ধমান স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সংকট সমাধানে সরকারের ঢিলেঢালা মনোভাব দেখে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রকে মাত্র ২ সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়েছে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:

  • সরকারের যুক্তিতে ক্ষোভ: উন্নত দেশের খাদ্য সংক্রান্ত লেবেলিং মানদণ্ড ভারতে এখনই প্রয়োগ করা কঠিন—কেন্দ্রের এই সওয়ালে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি পারদিওয়ালা প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি ভারতের উচিত চিরকাল একটি অনুন্নত দেশ হিসেবেই রয়ে যাওয়া?” আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিচার বিভাগ নিজেই কঠোর নির্দেশ জারি করবে।
  • জনস্বার্থ মামলা ও উদ্বেগজনক তথ্য: ‘৩এস অ্যান্ড আওয়ার হেলথ সোসাইটি’-র দায়ের করা এক মামলায় চিপস, বিস্কুট ও কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতো অতিরিক্ত নুন, চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কচিহ্ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। আদালতে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাজার ১৫০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের প্রকোপ বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ: সুপ্রিম কোর্ট স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সঠিক খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ। বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা বহু গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এখন দেখার, আদালতের বেঁধে দেওয়া এই দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *