নেপালে রাক্ষুসে হড়পা বান: দোতলার বারান্দায় একে অন্যকে জড়িয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে পরিবার, শিউরে ওঠা ভিডিও ভাইরাল!

নেপালে রাক্ষুসে হড়পা বান: দোতলার বারান্দায় একে অন্যকে জড়িয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে পরিবার, শিউরে ওঠা ভিডিও ভাইরাল!

একটি আকাশি রঙের দোতলা বাড়ি। তার ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে প্রলয়ঙ্করী কাদা-জলর প্রবল স্রোত। স্রোতের প্রচণ্ড ধাক্কায় চোখের সামনে গুঁড়িয়ে ভেসে যাচ্ছে আশপাশের একের পর এক ঘরবাড়ি। পালানোর কোনো পথ নেই। দোতলার ছোট বারান্দায় দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা দেখছেন এক দম্পতি ও তাঁদের সন্তান। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোয় হয়তো অলৌকিক কিছুর আশায় একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তাঁরা। জলের প্রচণ্ড ঝাপটায় সেকেন্ডের ভগ্নাংশে কখনো ভেঙে পড়ছে বাড়ির কার্নিস, তো কখনো ভেসে যাচ্ছে ছাদের অংশ। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া এই শিউরে ওঠা দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরিবারটি কীভাবে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। কখনো জলর স্রোতে ভেসে আসা গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারছে বাড়ির একতলায়, আবার কখনো আচমকা ধেয়ে আসা কাদামাটির বিশাল ঢেউ গিলে খাচ্ছে বাড়ির পেছনের বারান্দা। ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি নেপালের ত্রিশূলী বা চিতওয়ান এলাকার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই পরিবারটির কী পরিণতি হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে বরফ, পাথর ও কাদার এই ধ্বংসাত্মক হড়পা বান ধেয়ে আসায় রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং সহ বিস্তীর্ণ এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাননি।

উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি:

  • মৃতের সংখ্যা: আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জন এবং তিব্বত অংশে ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত: দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ১,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯০ হাজারের বেশি মানুষ।
  • ত্রাণ ও উদ্ধার: নেপালি সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধসে পড়া পরিকাঠামোর নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *