‘মানবতার পরিপন্থী’, না জানিয়েই হড়পা বান! চিনের গাফিলতিতে নেপালে মৃত ৬০০ পেরিয়ে

তিব্বতে হিমবাহ ধসের জেরে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। নেপালের প্রাক্তন বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাইন চিন-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, তিব্বত সীমান্তে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত ধেয়ে আসার আগে বেজিংয়ের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। চিনের এই তথ্য গোপন করার মানসিকতাকে তিনি “মানবতার পরিপন্থী” বলে তোপ দাগেন এবং জানান, এই ব্যর্থতার কারণেই মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
নেপাল সরকারের দাবি, দুই দেশের সীমান্ত প্রোটোকল থাকা সত্ত্বেও চিন যথাসময়ে তথ্য শেয়ার করেনি। তবে বেজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চিনা দূতাবাস সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, হিমালয়ের ৫,০০০ মিটার উচ্চতার দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও খাড়া ঢালের কারণে নিখুঁত পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিকভাবেই কঠিন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর শিলা কাঠামো দুর্বল হওয়ার কথা উল্লেখ করে চিন দাবি করেছে যে, তারা নেপালের জল ও আবহাওয়া বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি হয়েছেন অন্তত ৬২৬ জন মানুষ। নিখোঁজ প্রায় ২,৪০০ জন। সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ১১,০০০ কর্মী টানা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৫০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও উদ্ধার অভিযানে তীব্র চ্যালেন্জের মুখে পড়েছে প্রশাসন।