নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: পচে যাওয়া দেহ শনাক্ত করতে গুজরাত থেকে পৌঁছাল ভারতের বিশেষ DNA ফরেন্সিক দল

ওয়েব ডেস্ক: হিমালয়ের হিমবাহ ধসে নেপালে নেমে এসেছে প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বান। বিপর্যয়ের পর দিন যত গড়াচ্ছে, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মরদেহ দীর্ঘদিন কাদাজলে ডুবে থাকায় পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছে, ফলে সাধারণ উপায়ে তাঁদের চেনা প্রায় আসাম্ভব। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নেপাল সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে মৃতদের সঠিক পরিচয় খুঁজে বার করতে বিশেষ ফরেন্সিক দল পাঠাল ভারত।
শনিবার গুজরাতের গান্ধীনগরের ‘ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি’ (NFSU)-র ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন NFSU-এর ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন ডিএনএ ফরেন্সিক’-এর প্রধান ড. ভার্গব প্যাটেল।
কীভাবে কাজ করবে এই বিশেষ দল? উদ্ধার হওয়া বিকৃত মরদেহ থেকে DNA-এর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের থেকে নেওয়া হবে ‘রেফারেন্স DNA স্যাম্পেল’। এরপর দুই নমুনা মিলিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত করা হবে মৃতদের সঠিক পরিচয়। এর ফলে ভুল মরদেহ হস্তান্তরের সম্ভাবনা যেমন কমবে, তেমনই স্বজনহারা পরিবারগুলোও সঠিক তথ্য জানতে পারবে।
নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৮০ পার, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার! সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮২-তে (নেপালে ৬৭৫ এবং তিব্বতে ৭)। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখনও প্রায় ৩,০০০০০ (তিন হাজার) মানুষ নিখোঁজ! তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরা রয়েছেন।
উদ্বেগে ভারতীয় পরিবারগুলি: নেপালের এই বিপর্যয়ে বহু ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, অন্তত ২৮৭ জন ভারতীয় এবং ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভারতের এই ফরেন্সিক টিম মূলত নিখোঁজ ভারতীয়দের দেহ উদ্ধার হলে দ্রুত তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে।
ত্রাণ ও প্রযুক্তিতে ভারতের বাড়তি সাহায্য: কেবল ফরেন্সিক টিম নয়, বিপদের দিনে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যেই ভারত প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় ধসে পড়া সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ এবং নদীর কাদা-ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাতে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিচ্ছে ভারত। প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার পরিবারের কাছে দ্রুত সঠিক খবর পৌঁছে দেওয়াই এখন ভারতীয় ফরেন্সিক টিমের মূল লক্ষ্য।